কলকাতা, ১৬ আগস্ট (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ এবং প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘিরে রবিবার রাজ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বীরভূমের রামপুরহাটে নিজের বাড়ির অফিসে তাঁর দেহ উদ্ধার হওয়ার পরই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ।
উত্তর কলকাতার বেলেঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ প্রাক্তন বিধানসভা উপাধ্যক্ষের মৃত্যুর ঘটনায় একটি ‘স্বাধীন’ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আত্মহত্যার নোটে সামাজিক কলঙ্কের ভয় থেকে তৈরি মানসিক চাপ সহ্য করতে না পারার কথা উল্লেখ করেছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
কুণাল ঘোষ বলেন, ‘ভালো তৃণমূল’ হওয়ার পরও তিনি বাঁচতে পারলেন না। এই ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায় নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তৃণমূল বিধায়ক।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ভালো তৃণমূল’ বলে উল্লেখ করে কুণাল ঘোষ মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। দলের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ’ অংশে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় যোগ দিয়েছিলেন বলে ইঙ্গিত করেন তিনি।
অন্যদিকে, রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহাও ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রায় ২৪ হাজার ভোটে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন।
ধ্রুব সাহা বলেন, কয়েক দিন আগেই তাঁর সঙ্গে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখা হয়েছিল। এত চরম সিদ্ধান্ত তিনি নিতে পারেন, তা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না। পাঁচবারের বিধায়ক এই বয়সে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজেপি বিধায়ক আরও বলেন, প্রয়োজনে অন্য কোনও সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানো যেতে পারে। ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তরফে এই ঘটনায় কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পেশায় শিক্ষক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পাঁচবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী মন্ত্রিসভায় তিনি কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া ওই সরকারের সময় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার উপাধ্যক্ষের পদেও ছিলেন তিনি।
সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় পরাজয় এবং রামপুরহাটে তাঁর নিজের পরাজয়ের পর দলের নেতৃত্বের সঙ্গে প্রায় যোগাযোগহীন হয়ে পড়েছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সময়কালে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেও নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন।
—আইএএনএস



















