কলকাতা, ১৬ আগস্ট (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে রবিবার বীরভূমের রামপুরহাটে তাঁর বাড়ির একটি ঘরে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ঘরটি তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহৃত হত। পুলিশ জানিয়েছে, ঘরের ভিতর তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূমের রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। বাংলায় হাতে লেখা এক পাতার সুইসাইড নোটে তিনি রাজনীতিতে আসাকে ‘ভুল’ বলে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কখনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলেও দাবি করেছেন।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কেন তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন কি না, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটটি সত্যিই আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কি না, তাও যাচাই করে দেখছে পুলিশ।
রামপুরহাট কেন্দ্র থেকে পাঁচবার তৃণমূলের বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন আগের তৃণমূল সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন তিনি। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
সুইসাইড নোটে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীনও কোনও দুর্নীতিতে জড়াননি বলে দাবি করেছেন তিনি। রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও অতীতে তা কখনও শত্রুতার পর্যায়ে পৌঁছয়নি বলেও উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও লিখেছেন, দলের বিভিন্ন অন্যায় সবসময় মেনে নিতে না পারলেও প্রতিবাদ করতে পারেননি। জীবনে কোনও কাজের বিনিময়ে এক পয়সাও নেননি বলেও সুইসাইড নোটে দাবি করেছেন তিনি।
তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (টিআরডিএ) ক্ষেত্রেও তাঁকে দলীয়ভাবে সমস্ত ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, টিআরডিএ-তে সাধারণ সভায় উপস্থিত হওয়া ছাড়া তাঁর আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। তিনি টেন্ডার কমিটিতে ছিলেন না, চেক সই করার ক্ষমতাও তাঁর ছিল না। কোনও প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুমোদন বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর সঙ্গে আলোচনা করা হত না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁকে হেয় করার জন্য যা যা করা হয়েছে, তার নিন্দা করেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনীতিতে প্রবেশ করাই ভুল ছিল বলে মনে হচ্ছে—এমন মন্তব্য করে তিনি তাঁর দুই ছেলেকে রাজনীতিতে না আসার পরামর্শ দিয়েছেন। নিজেদের পেশায় থেকে যাওয়ার কথাও তাঁদের বলেছেন তিনি।
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে পেশায় শিক্ষক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় রামপুরহাট কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এরপর থেকেই দলের নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল বলে জানা গেছে।
— আইএএনএস



















