নয়াদিল্লি, ১২ আগস্ট (আইএএনএস): ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে ন্যায্য বাণিজ্যিক পদ্ধতি গ্রহণ, পুনর্ব্যবহার ও পুনরায় ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। একইসঙ্গে তিনি ‘সার্কুলার ইকোনমি’ বা চক্রাকার অর্থনীতির প্রসারের উপরও জোর দেন।
বুধবার দিল্লিতে ‘ভারতীয় বাণিজ্য মহোৎসব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোয়েল বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তে থাকা সুযোগ দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য ভারতীয় পণ্য ও পরিষেবাকে বিশ্বের বাজারে পৌঁছে দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করেছে।
তিনি জানান, ৯টি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় ব্যবসাগুলির জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার তৈরি করা হয়েছে।
দেশের রপ্তানি বৃদ্ধিতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প, কৃষক, মৎস্যজীবী, উদ্যোগপতি, শ্রমিক এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
গোয়েল বলেন, বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির আকার প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে তা ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পণ্য ও পরিষেবা রপ্তানি বর্তমানে রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে এবং চলতি বছরে রপ্তানির পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
তাঁর দাবি, গত ছয় বছরে ভারতের রপ্তানি প্রায় ৭৩ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুলাই সময়কালে রপ্তানিতে প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ব্র্যান্ডকে আরও শক্তিশালী করতে গুণমান, নকশা এবং উদ্ভাবনের উপর জোর দিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান গোয়েল। ভারতীয় ব্যবসাগুলিকে সীমিত দেশীয় বাজারের মধ্যে আবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য ও পরিষেবা নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
দেশীয় পণ্যের প্রতি ভারতীয় ক্রেতাদের আরও বেশি আগ্রহ উৎপাদন ও বাণিজ্য বাড়াতে সাহায্য করবে বলেও জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এর ফলে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়বে, ‘ইকোনমিজ অব স্কেল’ তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় ব্যবসাগুলি আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ব্যবসায়ী ও উদ্যোগপতিদের নিজেদের কাজকর্মে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার, উন্নত উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণ এবং ন্যায্য বাণিজ্যিক রীতি অনুসরণের আহ্বান জানান গোয়েল।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে তিনি পুনর্ব্যবহার, পুনরায় ব্যবহার এবং চক্রাকার অর্থনীতির দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
গোয়েল বলেন, আত্মনির্ভরতা এবং জাতীয় উন্নয়ন পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। তাই দেশের আত্মনির্ভরতার যাত্রায় নাগরিকদের সক্রিয় অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’, ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’ ও ‘স্ট্যান্ড-আপ ইন্ডিয়া’-র মতো উদ্যোগের পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর মতে, এই উদ্যোগগুলি শিল্পক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের যুবসমাজের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
গোয়েল আশা প্রকাশ করেন, ব্যবসায়ী, এমএসএমই, কৃষক, মৎস্যজীবী, শ্রমিক এবং উদ্যোগপতিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভারত বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।



















