পাটনা, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): বিহারের খাগড়িয়া জেলার মানসি থানার অন্তর্গত আমনি পঞ্চায়েতের হিয়াদাতপুর গ্রামে সত্যনারায়ণ পুজোর প্রসাদ খেয়ে ১৬৫ জনেরও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ঘটনার পর গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অসুস্থদের পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা দ্রুত তাঁদের খাগড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে একের পর এক অসুস্থ মানুষ আসতে থাকেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ হিয়াদাতপুর গ্রামে মায়ারাম চৌধুরীর ছেলে সুবোধ চৌধুরীর বাড়িতে সত্যনারায়ণ পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। পুজো শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
জানা গিয়েছে, প্রায় ২৫০ জন প্রসাদ গ্রহণ করেছিলেন। প্রসাদ খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বেশ কয়েকজনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। শিশুদের মধ্যে বমি ও ডায়রিয়ার উপসর্গ দেখা যায়। অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্কদের মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং অস্থিরতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
ক্রমশ অসুস্থ মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় গোটা গ্রামে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীরা মানসি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে খবর দিলে স্বাস্থ্য দপ্তর দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
এরপর বহু রোগীকে খাগড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁদের চিকিৎসা শুরু করেন। রাত পর্যন্ত হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং চিকিৎসাকর্মীদের ব্যস্ততা অব্যাহত থাকে।
সদর হাসপাতালের ম্যানেজার প্রণব কুমার জানান, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই অ্যাম্বুল্যান্স পাঠানো হয়। অসুস্থরা হাসপাতালে পৌঁছনোর পর তাঁদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়।
স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি দলও ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে এবং অসুস্থদের শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছে। রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।
একসঙ্গে এতজন মানুষ প্রসাদ খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রসাদের গুণমান এবং দূষণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এখনও পর্যন্ত প্রসাদ খাওয়ার কারণেই অসুস্থতা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেনি প্রশাসন।
স্বাস্থ্য দপ্তরের তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পরই অসুস্থতার সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
এদিকে, অসুস্থদের শারীরিক অবস্থার উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের চিকিৎসায় ব্যস্ত রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে হিয়াদাতপুর গ্রামে এখনও উদ্বেগের পরিবেশ রয়েছে।
–আইএএনএস



















