বোগোটা, ১০ আগস্ট : সোমবার সকালে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭.৪ বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ও কলম্বিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রাজধানী বোগোটাসহ একাধিক শহরে কম্পন অনুভূত হয়। প্রাথমিকভাবে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
নিহতদের মধ্যে ১৮ জন পেরেইরা শহরের এবং দু’জন মানিজালেসের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ভূমিকম্পের জেরে বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষ ঘরবাড়ি ও অফিস থেকে বেরিয়ে রাস্তায় আশ্রয় নেন।
কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা প্রথমে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬.৬ বলে জানিয়েছিল। পরে ইউএসজিএস-সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এর মাত্রা ৭.৪ বলে নিশ্চিত করে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। স্থানটি রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে।
স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জাতিসংঘের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ইউএনজিআরডি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ৭৯ কিলোমিটার বা তারও বেশি। ইউএসজিএস-এর হিসাবে, সান হোসে দেল পালমারের প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে ছিল এর কেন্দ্রস্থল।
ভূমিকম্পের কম্পন শুধু কলম্বিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামার বিভিন্ন এলাকাতেও তা অনুভূত হয়েছে। ভেনেজুয়েলা সীমান্তবর্তী অঞ্চলও কেঁপে ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে ফাটল এবং রাস্তায় আতঙ্কিত মানুষের ছোটাছুটি দেখা গেছে। মানিজালেসের এল কেবল এলাকাতেও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দৃশ্য সামনে এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কালি, আর্মেনিয়া ও পেরেইরাসহ বিভিন্ন শহরের ভবনে ফাটলের কথা বলা হয়েছে। মেডেলিনেও কিছু স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালির মেয়র ভূমিকম্পে ‘বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি’র কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ছবিতে কয়েকটি ভবনের সামনের অংশের দেয়াল ও কাঠামো ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।
রাজধানী বোগোটাতেও ভূমিকম্পের তীব্রতা অনুভূত হয়। জরুরি সাইরেন বেজে ওঠার পর অনেক মানুষ ঘুমের পোশাক পরেই বাড়ি ও ভবন থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে বোগোটার মেয়র জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে শহরে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মেডেলিনেও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর মেলেনি।
চোকো প্রদেশের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্ডোবা-কুরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রদেশটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে এবং পরবর্তী কম্পন বা আফটারশকের আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল সান হোসে দেল পালমারের কাছে হলেও প্রাদেশিক রাজধানী কুইবদোতেও মানুষ আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জানিয়েছেন, তিনি নিজে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার তৎপরতা তদারক করবেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সান হোসে দেল পালমারে একটি জরুরি সমন্বয়কেন্দ্র স্থাপনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে জুনের শেষ দিকে ভেনেজুয়েলায় পরপর ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই দুই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তবে সেগুলোর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ থেকে ২২ কিলোমিটার। তুলনায় সোমবারের কলম্বিয়া ভূমিকম্পের গভীরতা প্রায় ৭৯ কিলোমিটার হওয়ায় এর প্রভাবের ধরন কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
তবে ভূমিকম্পের পর আফটারশকের আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাবের পাশাপাশি নিখোঁজ ও আহতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে।



















