কৈলাসহর, ১০ আগস্ট: ফের পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠল কৈলাসহরে। কীটনাশক খেয়ে তিনটি গরুর মৃত্যুর ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেলেও পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করেনি এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেনি বলে অভিযোগ এক অসহায় কৃষকের। ন্যায়বিচারের আশায় প্রতিদিন দু’বেলা করে থানায় গিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের কাছে আবেদন করেও কোনও সুরাহা না হওয়ায় অবশেষে সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি কৈলাসহরের দেওরাছড়া এডিসি ভিলেজের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘাছড়া গ্রামের। ওই এলাকার বাসিন্দা ইননুস আলী পেশায় কৃষক। তাঁর দাবি, ছোট-বড় মিলিয়ে তাঁর মোট আটটি গরু রয়েছে। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন সকালে গরুগুলোকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য পাশের টিলা এলাকায় নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। কয়েক ঘণ্টা পর গ্রামের এক যুবক তাঁকে খবর দেয়, গরুগুলো কীটনাশক জাতীয় ওষুধ খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ইননুস আলী দেখতে পান, তিনটি গরু মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বাকি পাঁচটি গরু অসুস্থ হয়ে মাটিতে কাতরাচ্ছে। তিনি তড়িঘড়ি পাঁচটি গরুকে বাড়িতে নিয়ে এসে লেবুর জল ও তেঁতুলের জল খাইয়ে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা করেন এবং সেগুলোকে বাঁচাতে সক্ষম হন বলে জানান।
ইননুস আলীর অভিযোগ, মৃত তিনটি গরুর দেহের পাশে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ এবং তার ভিতরে কীটনাশক জাতীয় ওষুধ পাওয়া যায়। এখানেই শেষ নয়, ঘটনার দিন সকালে গরুগুলোকে টিলা এলাকায় ছেড়ে বাড়ি ফেরার পথে লালমারি দারলং, সাংগি দারলং এবং লাল এন কুয়ালা দারলং নামে তিন ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ওই তিনজনের প্রত্যেকের হাতেই প্লাস্টিকের ব্যাগ ছিল। পরবর্তীতে মৃত গরুগুলোর পাশে যে প্লাস্টিকের ব্যাগ পাওয়া যায়, সেগুলোই ওই ব্যক্তিদের হাতে দেখা ব্যাগ বলে দাবি করেছেন কৃষক। তবে এই অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।
ঘটনার পর ইননুস আলী পাশ্ববর্তী দারলং গ্রামের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানান। তাঁর দাবি, চেয়ারম্যান প্রথমে ন্যায়বিচার ও প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেন এবং পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি না জানানোর জন্য বলেন। পরে গ্রামে সালিশি বৈঠক হলেও কোনও কার্যকর সিদ্ধান্ত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিজের মতো করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয় বলে অভিযোগ।
এরপর কৈলাসহর থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ইননুস আলী। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ সেই অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেনি এবং ঘটনাস্থলেও যায়নি। মৃত গরুগুলোর ময়নাতদন্তের জন্য বারবার পুলিশের কাছে আবেদন করলেও তাঁকে পশু হাসপাতালে গিয়ে কথা বলতে বলা হয়।
কৃষকের দাবি, পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী কৈলাসহর পশু হাসপাতালে গেলে পশু চিকিৎসকরা জানান, পুলিশের লিখিত নির্দেশ বা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালে তাঁরা ময়নাতদন্ত করতে পারবেন না। বিষয়টি থানায় জানালে পুলিশ তাঁকে পশু চিকিৎসকদের টাকা দেওয়ার কথা বলে বলেও অভিযোগ করেছেন ইননুস আলী। যদিও পুলিশের এই বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, তিনটি গরুর মৃতদেহ প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকায় এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ। দুর্গন্ধের কারণে আশপাশের বাড়ির বাসিন্দারাও সমস্যায় পড়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাঘাছড়া গ্রামে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ইননুস আলীর অভিযোগ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চাপের কারণেই পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমনকি অভিযুক্তদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতা বা পুলিশের বক্তব্যও এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ন্যায়বিচারের আশায় থানায় ঘুরেও কোনও সুরাহা না হওয়ায় এখন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন অসহায় কৃষক ইননুস আলী।























