নয়াদিল্লি, ৫ আগস্ট (আইএএনএস): তথাকথিত ‘ইয়ৌম-ই-ইস্তেহসাল’ পালনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দারের মন্তব্যের কড়া জবাব দিল ভারত। বুধবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তান মিথ্যা প্রচার চালিয়ে নিজেদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ড এবং সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেওয়ার বিষয় থেকে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে। তবে “বিশ্ব আর এই পরিকল্পিত নাটকে বিভ্রান্ত হচ্ছে না।”
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত তথাকথিত ‘ইয়ৌম-ই-ইস্তেহসাল’ পালনের রাজনৈতিক প্রহসন এবং ভারতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর পাকিস্তানের এই প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট গৃহীত সাংবিধানিক পরিবর্তন ভারতের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার পাকিস্তানের নেই।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের দাবি, ২০১৯ সালের সাংবিধানিক পরিবর্তনের ফলে জম্মু ও কাশ্মীরে নজিরবিহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সুশাসন এবং গণতান্ত্রিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়েছে।
পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (পিওজেকে) বর্তমানে মৌলিক অধিকার দমন করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে সেখানে শান্তিপূর্ণ নাগরিক আন্দোলন দমনে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ, লক্ষ্য করে হত্যা এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার আশ্রয় নিয়েছে বলে ভারতের দাবি।
জয়সওয়াল বলেন, “নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র-সমর্থিত এই সহিংসতা পাকিস্তানের দ্বিচারিতাকেই প্রকাশ করে।”
তিনি আরও বলেন, “কূটনৈতিক নাটক মঞ্চস্থ করার পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত পিওজেকে রক্তপাত বন্ধ করা, নিজেদের ভূখণ্ডে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য, যাচাইযোগ্য ও অপরিবর্তনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং বেআইনিভাবে দখল করে রাখা ভারতের সমস্ত ভূখণ্ড অবিলম্বে খালি করা। বিশ্ব আর এই পরিকল্পিত নাটকে বিভ্রান্ত নয়।”
উল্লেখ্য, বুধবার ভারত ২০১৯ সালের ৫ আগস্টের সাংবিধানিক পরিবর্তনের বর্ষপূর্তি পালন করছে। ওই দিন সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫এ অনুচ্ছেদের বিশেষ বিধান বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরকে সম্পূর্ণভাবে ভারতের সাংবিধানিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ভারতের দাবি, গত সাত বছরে জম্মু ও কাশ্মীরে পরিকাঠামো, শিক্ষা, পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে অর্থনৈতিক শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং প্রশাসনিক দমন-পীড়নের জেরে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।
এছাড়া, পিওজেকে পাকিস্তানের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেও ভারত পূর্বে “লোকদেখানো নির্বাচন” বলে অভিহিত করে জানিয়েছে, এটি বেআইনি দখল এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বাস্তব চিত্র আড়াল করার একটি প্রচেষ্টা মাত্র।



















