তিরুবনন্তপুরম/নয়াদিল্লি, ৫ আগস্ট (আইএএনএস): তিরুবনন্তপুরমের আটটি শীর্ষ বৈজ্ঞানিক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে একটি সমন্বিত গবেষণা ক্লাস্টারের আওতায় আনার কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে কেন্দ্র। বুধবার কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্ব) জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সাথীশনের সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী।
নয়াদিল্লিতে শশী থারুর ও জিতেন্দ্র সিংয়ের বৈঠকে এই প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের পর সামাজিক মাধ্যমে থারুর জানান, বিজ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে সমন্বিত একটি গবেষণা ক্লাস্টার গঠনের ধারণাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সম্পূর্ণ সমর্থন করেছেন এবং কেন্দ্র-রাজ্য সহযোগিতার একটি আদর্শ মডেল হিসেবে এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
থারুর বলেন, প্রস্তাবিত ক্লাস্টারের অধীন প্রকল্পগুলি সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলিই পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিরুবনন্তপুরমে আরও আলোচনা হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন এবং বৈঠকটিকে “অত্যন্ত ফলপ্রসূ” বলে উল্লেখ করেন।
প্রস্তাবিত গবেষণা ক্লাস্টারে তিরুবনন্তপুরম ও সংলগ্ন এলাকার আটটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলি হল— রাজীব গান্ধী সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, ন্যাশনাল সেন্টার ফর আর্থ সায়েন্স স্টাডিজ, সেন্ট্রাল টিউবার ক্রপস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, সিএসআইআর-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারডিসিপ্লিনারি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অব অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং এবং শ্রী চিত্রা তিরুনাল ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠান থারুরের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত।
এই প্রস্তাবের ভিত্তি তৈরি হয় গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে, যখন এই আটটি প্রতিষ্ঠান পারস্পরিক গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলির প্রধানদের উপস্থিতিতে এসসিটিআইএমএসটিতে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সমঝোতা স্মারকে যৌথ গবেষণা প্রকল্প, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, গবেষণা পরিকাঠামো ভাগাভাগি, উদ্ভাবনভিত্তিক কর্মসূচি এবং তরুণ বিজ্ঞানীদের উৎসাহিত করতে ‘ইয়ং রিসার্চার্স প্ল্যাটফর্ম’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই গবেষণা ক্লাস্টার বাস্তবায়িত হলে তিরুবনন্তপুরম দেশের অন্যতম প্রধান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কেন্দ্র-রাজ্য সহযোগিতার একটি কার্যকর মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।



















