নয়াদিল্লি, ১৪ জুলাই (আইএএনএস): পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ ও বাধাহীন নৌচলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করল ভারত। মঙ্গলবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি জানান, ভারত পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি আলোচনার পথেই সমাধানের আহ্বান জানিয়ে চলেছে।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছি। হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ ও বাধাহীন নৌচলাচল এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকার পক্ষে আমরা বারবার আহ্বান জানিয়েছি। এটি বিশ্বের মানুষের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের ডেপুটি চিফ অব মিশনকে তলব করার পর আমরা একটি বিবৃতিও জারি করেছি। সেখানে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি এবং ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। এই হামলায় এক ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং একাধিক ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”
মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর ভারত সরকার ইরানের ডেপুটি চিফ অব মিশন মোহাম্মদ জাভাদ হোসেইনিকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানায়।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, ভারত স্পষ্টভাবে ইরানকে জানিয়েছে যে এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “উত্তেজনা প্রশমিত হওয়া জরুরি এবং উভয় পক্ষের আলোচনার টেবিলে ফিরে এসে সংলাপ ও কূটনীতির পথ বেছে নেওয়া উচিত, যাতে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়।”
জানা গিয়েছে, ইউএই-এর তেলবাহী জাহাজ মোমবাসা এবং আল বাহিয়াহ হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণাংশ দিয়ে যাওয়ার সময় ইরানের ছোড়া দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রণধীর জয়সওয়াল জানান, হামলার শিকার ওই দুটি জাহাজে মোট ৩০ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে একটি জাহাজে থাকা ১২ জনের মধ্যে একজন ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন। অন্য জাহাজে থাকা ১৮ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে নয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা সংকটজনক।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরুর পর থেকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ভারতীয় নাবিকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন দেশের নাবিকদের মধ্যে ভারতীয়দের মৃত্যুর সংখ্যাই সর্বাধিক, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
























