আগরতলা, ১২ জুলাই (আইএএনএস) : দীর্ঘদিনের ত্রিপুরা-মিজোরাম আন্তঃরাজ্য সীমান্ত বিরোধের সমাধানে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে ত্রিপুরা সরকার। দুই রাজ্যের মধ্যে ১০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সংক্রান্ত অমীমাংসিত সমস্যা নিয়ে শীঘ্রই উভয় রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে রবিবার জানিয়েছেন প্রশাসনিক সূত্র।
এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক জানান, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সীমান্ত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা নতুন করে সংলাপ শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
শনিবার আগরতলায় এক সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি শিলংয়ে অনুষ্ঠিত উত্তর-পূর্ব পরিষদের ৭৩তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের ফাঁকে তিনি মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমার সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা করেন।
মানিক সাহা বলেন, আমি মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে, আন্তঃরাজ্য সীমান্ত বিরোধ মেটাতে আমাদের আলোচনায় বসা উচিত। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানান।
তিনি আরও বলেন, আমি প্রস্তাব দিয়েছি, মুখ্যমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আগে দুই রাজ্যের শীর্ষ সরকারি আধিকারিকরা বসে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করুন। এরপর আমরা মুখ্যমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীও এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব পরিষদের ৭৩তম পূর্ণাঙ্গ বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং উত্তর-পূর্বের আটটি রাজ্যের রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রিপুরার দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তর দিক বাংলাদেশ দ্বারা বেষ্টিত। রাজ্যটির মোট সীমান্তের প্রায় ৮৪ শতাংশ, অর্থাৎ ৮৫৬ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত বাংলাদেশের সঙ্গে। এছাড়া অসমের সঙ্গে ৫৩ কিলোমিটার এবং মিজোরামের সঙ্গে ১০৯ কিলোমিটার আন্তঃরাজ্য সীমান্ত রয়েছে। ত্রিপুরা ও মিজোরামের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরেই অমীমাংসিত।
দুই রাজ্যের দাবিকৃত বিতর্কিত এলাকায় কোনও উন্নয়নমূলক বা নির্মাণকাজ শুরু হলেই প্রায়শই উত্তেজনা দেখা দেয়। গত বছরের মে মাসে উত্তর ত্রিপুরা জেলার ত্রিপুরা-মিজোরাম সীমান্তবর্তী ফুলডুংসেই গ্রামে নির্মীয়মাণ একটি পর্যটন ভবনে দুষ্কৃতীরা বিস্ফোরণ ঘটায়, যার ফলে ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ঘটনার পর ত্রিপুরা ও মিজোরাম উভয় রাজ্যের পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয়। পরে ত্রিপুরার পর্যটন ও পরিবহণমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী উত্তর ত্রিপুরার জামপুইয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করে ক্ষতিগ্রস্ত ইকো-ট্যুরিজম পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ফুলডুংসেই গ্রামটি দুই রাজ্যই নিজেদের সীমান্তের অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করে। ফলে এটি দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম বিতর্কিত সীমান্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত।
ত্রিপুরা পর্যটন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের ‘স্বদেশ দর্শন’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩.১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বনভূমির উপর পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছিল।
বিস্ফোরণের পর দুই রাজ্যই ওই এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে এবং পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারি চালায়। পরে ত্রিপুরা সরকার বিষয়টি সরকারি পর্যায়ে মিজোরাম সরকারের কাছে উত্থাপন করে।
গত কয়েক বছরে উত্তর ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন, মিজোরামের মামিত জেলা প্রশাসন এবং সার্ভে অফ ইন্ডিয়া-র আধিকারিকরা সীমান্তের বিতর্কিত অংশগুলি নিয়ে একাধিক দফায় বৈঠক করেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান মেলেনি। অন্যদিকে, মিজোরামের বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও ছাত্র সংগঠন বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় ত্রিপুরা সরকারের নির্মাণকাজের বিরোধিতা করে আসছে।
























