চামোলি, ১২ জুলাই (আইএএনএস) : শ্রী বদ্রীনাথ ধামে ভক্তদের দান ও মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-র বিভাগীয় তদন্ত সম্পূর্ণ হয়েছে। তদন্তকারী দল তাদের রিপোর্ট মন্দির কমিটির প্রধান নির্বাহী আধিকারিকের (সিইও) কাছে জমা দিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ভক্তদের অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের ঘটনা শুধু একবার নয়, একাধিকবার ঘটেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, চার সদস্যের তদন্তকারী দল ১৮ পাতার রিপোর্টে গোটা ঘটনার বিবরণ এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে।
রিপোর্টে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে একাধিক সুপারিশও করা হয়েছে। তদন্তকারী কমিটি মন্দিরের দান গণনার কক্ষে আরও বেশি সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর এবং মন্দিরের প্রদক্ষিণ পথের সব ‘ব্লাইন্ড স্পট’ সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছে।
সূত্রের দাবি, তদন্তকারী দল ২ জুলাইয়ের ঘটনার আগে মাত্র ১৪ দিনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। আগে থেকে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরাগুলির মান নিম্নমানের হওয়ায় সেগুলির রেকর্ডিং সংরক্ষণের ক্ষমতা ছিল মাত্র ১৫ দিন।
তদন্তে প্রাপ্ত ২ জুলাইয়ের সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তকে অর্থ আত্মসাৎ করতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, তার আগের ১৪ দিনের ফুটেজের বেশ কয়েকটি অংশও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছে তদন্তকারী দল।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৭ জুলাই শ্রী বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি (বিকেটিসি) বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কমিটির চেয়ারম্যানের দফতরে কর্মরত ব্যক্তিগত সহকারী প্রমোদ নৌটিয়ালকে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এর আগে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিকেটিসি।
মন্দির কমিটির জারি করা নির্দেশে বলা হয়, সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রমোদ নৌটিয়ালের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের প্রাথমিক অভিযোগ সামনে এসেছে। এরপর ৩ জুলাই তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
তদন্ত চলাকালীন প্রাপ্ত ব্যাখ্যা এবং তদন্তকারী কমিটির প্রাথমিক রিপোর্ট পর্যালোচনা করে অভিযোগগুলিকে প্রাথমিকভাবে সত্য বলে মনে হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। তদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর।



















