বিশ্রামগঞ্জ, ২ জুলাই: স্বামী হত্যার ঘটনায় নিজের গর্ভধারিণী মা-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও ন্যায্য বিচারের দাবি জানালেন এক গৃহবধূ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিপাহিজলা জেলার বিশ্রামগঞ্জের লুনথাইছড়া এলাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিযোগ করেন হোসিয়ারা খাতুন।
হোসিয়ারা খাতুনের অভিযোগ, তার মা মল্লিকা বেগম, মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা বলে অভিযোগ ওঠা সুলতান উদ্দিন এবং তাদের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত হান্নাই মিয়া, রিনা বেগম, বুধু ও মরা গত ৭ জুন রাতে তার স্বামী রাজু মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। এরপর মরদেহটি চুড়াইবাড়ি থানার অন্তর্গত পূর্ব চুড়াইবাড়ি গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার রেললাইনের পাশে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ।
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার সময় তাকে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। তার পাঁচ বছরের মেয়ে সাইমা বেগম নাকি পুরো ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। ৮ জুন সকালে রেললাইনের ধারে রাজু মিয়ার মরদেহ উদ্ধার হয়।
স্বামীর মৃত্যুর পর প্রাণভয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি বিশ্রামগঞ্জের লুনথাইছড়ায় শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন বলে জানান। তিনি দাবি করেন, ঘটনার ধাক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় সঙ্গে সঙ্গে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি। পরে গত ২৮ জুন শ্বশুর-শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে চুড়াইবাড়ি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, মৃত রাজু মিয়ার পরিবারের দাবি, তারা অত্যন্ত অসচ্ছল অবস্থায় রয়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দুই নাতি-নাতনি ও পুত্রবধূর ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃতের বাবা-মা ও স্ত্রী।
























