সংযুক্ত রাষ্ট্র, ২ জুলাই (আইএএনএস): ভারতের প্রস্তাবিত কমপ্রিহেনসিভ কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল টেররিজম (সিসিআইটি) দ্রুত গ্রহণের জন্য আবারও সদস্য দেশগুলিকে আহ্বান জানাল রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)।
বুধবার রাষ্ট্রপুঞ্জের গ্লোবাল কাউন্টার-টেররিজম স্ট্র্যাটেজি (জিসিটিএস)-এর নবম পর্যালোচনা প্রস্তাব ১৪০ ভোটে গৃহীত হয়। বিপক্ষে ভোট দেয় তিনটি দেশ। প্রস্তাবে সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে সিসিআইটি গ্রহণে “সর্বাত্মক প্রচেষ্টা” চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ভারত ৩১ বছর আগে এই কনভেনশনের প্রস্তাব দিলেও তা এখনও গৃহীত হয়নি।
রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি. হরিশ বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি সর্বজনস্বীকৃত আইনি কাঠামোর অভাব বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব শুধুমাত্র তখনই, যখন কোনও ধরনের দ্বিচারিতা থাকবে না এবং ‘ভালো’ ও ‘খারাপ’ সন্ত্রাসবাদীর মধ্যে কোনও বিভাজন করা হবে না।
ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান-সহ কয়েকটি দেশ কিছু সন্ত্রাসবাদীকে ‘স্বাধীনতা সংগ্রামী’ আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতি সমর্থনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে, যার ফলে সিসিআইটি গৃহীত হওয়ার পথে দীর্ঘদিন ধরে বাধা তৈরি হয়েছে।
পি. হরিশ বলেন, “সন্ত্রাসবাদ দমনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্বিচারিতা সম্পূর্ণভাবে বর্জন করতে হবে। কোনও অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা কৌশলগত হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে সন্ত্রাসবাদকে কখনওই ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। সব ধরনের সন্ত্রাসবাদকে নিঃশর্তভাবে নিন্দা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদী, তাদের সংগঠক, অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা সদস্য রাষ্ট্রগুলির দায়িত্ব এবং এ ক্ষেত্রে সব দেশের পূর্ণ সহযোগিতা প্রয়োজন।
ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধির মতে, সিসিআইটি গৃহীত হলে আইনি ফাঁকফোকর দূর হবে, বিচার ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে এবং সন্ত্রাসবাদী ও তাদের মদতদাতাদের নিরাপদ আশ্রয়, অর্থ ও অস্ত্রের জোগান বন্ধ করা সহজ হবে। তিনি বলেন, “এবার রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখিয়ে সিসিআইটি চূড়ান্ত করার সময় এসেছে।”
২০০৬ সালে প্রথম গৃহীত হওয়ার পর থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর জিসিটিএস সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়ে এলেও এবার যুক্তরাষ্ট্রের দাবিতে বিষয়টি ভোটাভুটিতে যায়। যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটিকে “অতিরিক্ত বিস্তৃত, পুরনো এবং লক্ষ্যহীন” বলে সমালোচনা করে। তাদের সঙ্গে ইজরায়েল ও আর্জেন্টিনা বিপক্ষে ভোট দেয়। ৪৯টি দেশ ভোটদানে অনুপস্থিত ছিল। জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটদানে বিরত থাকলেও পরে জানায়, এটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে হয়েছে এবং তারা প্রস্তাবটিকে সমর্থন করে।
এছাড়া পি. হরিশ রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছে ধর্মীয় বিদ্বেষ মোকাবিলায় আরও সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইসলামোফোবিয়া, খ্রিস্টান-বিদ্বেষ ও ইহুদি-বিদ্বেষের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের বিরুদ্ধেও বিদ্বেষের বিষয়টি সমান গুরুত্ব দিয়ে স্বীকার করা উচিত।
























