জয়পুর, ২ জুলাই (আইএএনএস): পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর জন্য অর্থ লেনদেনের একটি সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কের হদিস পাওয়ার দাবি করেছে রাজস্থান পুলিশের সিআইডি (ইন্টেলিজেন্স)। এই মামলায় মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ জেলার হারসুল এলাকার বাসিন্দা রফিক চাঁদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি ভারতে গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের কাছে আইএসআই-এর পাঠানো অর্থ পৌঁছে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন।
পুলিশের দাবি, ১৯২৩ সালের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-এর অধীনে চলা তদন্তে এই গ্রেফতারি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
এর আগে একই মামলায় রাজস্থানের জয়সলমেরের বাসিন্দা ঝাবরা রাম এবং অসমের ডিব্রুগড়ে ভারতীয় বায়ুসেনার ঘাঁটিতে কর্মরত মাল্টি-টাস্কিং স্টাফ (এমটিএস) সুমিত কুমারকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্য আইএসআই-এর হ্যান্ডলারদের কাছে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত চলাকালীন সিআইডি (ইন্টেলিজেন্স) অর্থ লেনদেনের সূত্র অনুসরণ করে জানতে পারে, গুপ্তচরবৃত্তির বিনিময়ে আইএসআই-এর পাঠানো অর্থ রফিক চাঁদ শেখের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে পৌঁছত বলে অভিযোগ।
জেরায় রফিক চাঁদ শেখ দাবি করেছেন বলে তদন্তকারীদের বক্তব্য, গত প্রায় চার বছর ধরে তিনি এক আইএসআই হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত একটি নেটওয়ার্কের নির্দেশে তিনি নিজের নামে এবং অন্যদের নামে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে সেই অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতেন।
আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই এবং এই নেটওয়ার্কে তাঁর কথিত ভূমিকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর গত ৩০ জুন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, তিনি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার অর্থ জোগানদাতা হিসেবে কাজ করছিলেন এবং দেশের অভ্যন্তরে সন্দেহভাজন অপারেটিভদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন।
সিআইডি (ইন্টেলিজেন্স) জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। এই অর্থ লেনদেন চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন এমন অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা, অতিরিক্ত আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য যোগাযোগের দিকগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলায় আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
























