আগরতলা, ২ জুলাই: সিপাহিজলা জেলার সোনামুড়া থানার অন্তর্গত তামসাবাড়ি ও উরমাই গ্রামে যৌথ অভিযানে বাংলাদেশের দুই নাবালিকা কিশোরীকে উদ্ধার করেছে প্রশাসন। উদ্ধার অভিযানের পর শিশু অধিকার সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলির আবেদনের ভিত্তিতে সীমান্ত পেরিয়ে তাদের ভারতে নিয়ে আসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরী বাংলাদেশের বাসিন্দা। প্রায় দেড় বছর আগে তারা অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসে বলে অভিযোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে দুই ভারতীয় যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে তারা বিয়ে করে স্বামীদের সঙ্গে সোনামুড়া এলাকায় বসবাস করছিল।
অভিযানের সময় দুই কিশোরীর কাছ থেকে জাল বা ভুয়া নথির ভিত্তিতে তৈরি ভারতীয় পরিচয়পত্রও উদ্ধার হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে প্রশাসন।
অতিরিক্ত মহকুমা শাসক (এডিএম) দিব্যেন্দু দাস জানান, যেসব বাড়ি থেকে কিশোরীদের উদ্ধার করা হয়েছে, সেই বাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়েরের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাল নথির মাধ্যমে ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরীকে সরকারি সুরক্ষা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়ম মেনে তাদের বাংলাদেশে নিজ পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হবে।
প্রশাসনের দাবি, দুই কিশোরী স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে নিজেদের পরিবারের কাছে ফিরে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, ভারতে থাকার সময় স্বামীদের দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
ঘটনার পর জাল নথির মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতীয় পরিচয়পত্র পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে একটি সম্ভাব্য চক্রের সন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের আশা, তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।



















