কলকাতা, ১৯ জুন (আইএএনএস) : তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। শুক্রবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের কথা জানান। ইস্তফার কারণ হিসেবে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন।
গত সপ্তাহেই তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য করা হয়েছিল। কিন্তু সেই অন্তর্ভুক্তির মাত্র সাত দিনের মধ্যেই তিনি দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তে শর্করার সমস্যায় ভুগছি। ডায়াবেটিসের কারণে আমার কিডনিও আক্রান্ত হয়েছে। এই অবস্থায় চিকিৎসাগত কারণে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমি সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা কেন্দ্র থেকে ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এবং পরে একই জেলার হাবরা কেন্দ্র থেকে ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হন। তবে সদ্যসমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মণ্ডলের কাছে ৩১ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হন তিনি।
২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর বহু কোটি টাকার রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাঁকে গ্রেফতার করে। খাদ্য ও সরবরাহমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে ওই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। গ্রেফতারের সময় তিনি রাজ্যের বনমন্ত্রী ছিলেন।
প্রথমে ইডি হেফাজত এবং পরে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে এক বছরেরও বেশি সময় কাটানোর পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর তিনি শাসক দলের বিধায়ক হিসেবে থাকলেও মন্ত্রিসভায় আর কোনও দায়িত্ব পাননি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে প্রকাশ্য মঞ্চে একাধিকবার প্রশংসা করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর ইডি গ্রেফতারের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলে অভিহিত করেছিলেন।



















