ঢাকা, ১৯ জুন (আইএএনএস) : হাইকোর্ট থেকে তিনটি পৃথক মামলায় জামিন পাওয়ার পরও আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাংসদ ও নেত্রী লায়লা পারভীন সেজুতিকে ফের গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলের দাবি, এই ঘটনা দেশে আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
দলীয় বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সাতক্ষীরা সদর থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় সেজুতিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যদিও তিনি ইতিমধ্যেই হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন। তদন্তকারী আধিকারিকের আবেদনের ভিত্তিতে গত ১৪ জুন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাশ মণ্ডলের আদালত এই নির্দেশ দেয়।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২০ মে সাতক্ষীরা শহরের নিজ বাড়ি থেকে সেজুতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয় এবং তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, বিচারিক সুরক্ষা পাওয়ার পরও সেজুতিকে গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনায় দেশের আইনব্যবস্থার স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের উদ্ধৃত করে দলটি দাবি করেছে, এই মামলার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে বলে বিরোধীরা অভিযোগ তুলছে। তাঁদের মতে, সেজুতিসহ কয়েক ডজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে আইনকে বেছে বেছে ব্যবহার করার উদাহরণ।
দলের মতে, এই ঘটনা শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিষয় নয়, বরং সাধারণ নাগরিকদের আইনি অধিকার ও ন্যায়বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে বিষয়টি এখন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা এবং নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষার বৃহত্তর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ বলেছে, সেজুতির গ্রেপ্তার নিয়ে বিতর্ক জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবেই থেকে যাবে এবং স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলার দাবিও জোরদার হবে।
এদিকে, আওয়ামী লীগের নেতা ও বাংলাদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত অভিযোগ করেছেন, গত দুই বছর ধরে দলের শতাধিক প্রাক্তন সাংসদ, মন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় নেতা বিচার ছাড়াই কারাগারে রয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ তিনি লেখেন, “যদি সত্যিই আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাংসদ, মন্ত্রী এবং নেতারা অপরাধ করে থাকেন, তাহলে সেই নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য তাঁদের বিচার করা হোক। তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে দীর্ঘদিন আটক রাখার কোনও প্রয়োজন নেই।”
তিনি আরও বলেন, “যদি অভিযোগ সত্য হয়, তবে আইন অনুযায়ী বিচার হোক। কিন্তু মিথ্যা মামলার আশ্রয় নেওয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই।”



















