নয়াদিল্লি, ১৯ জুন (আইএএনএস): নিট (ইউজি) ২০২৬-এর পুনঃপরীক্ষার আগে সারা দেশে টেলিগ্রামের পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে বৈধ বলে রায় দিল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকার আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সমস্ত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে।
বিচারপতি তেজস কারিয়ার একক বেঞ্চ টেলিগ্রামের দায়ের করা আবেদনের শুনানি শেষে তা খারিজ করে দেয়। রায়ে বলা হয়, দেশের মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের জারি করা নির্দেশ যথাযথ, যুক্তিসঙ্গত এবং আনুপাতিকতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, “জরুরি পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত পদ্ধতি কঠোরভাবে অনুসরণ করেছে। সরকারের পদক্ষেপের উদ্দেশ্য, গৃহীত ব্যবস্থার সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় আনুপাতিকতার মানদণ্ড পূরণ হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন সীমাবদ্ধতামূলক ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়েছে।”
টেলিগ্রাম কেন্দ্রের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল, যার মাধ্যমে ২২ জুন পর্যন্ত সারা দেশে তাদের পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা এবং ৩০ জুন পর্যন্ত বার্তা সম্পাদনার (মেসেজ এডিট) সুবিধা নিষ্ক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
জাতীয় পরীক্ষণ সংস্থা (এনটিএ)-র সুপারিশের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৬৯এ ধারার অধীনে এই নির্দেশ জারি করেছিল।
কেন্দ্রের দাবি, টেলিগ্রামের গঠনগত বৈশিষ্ট্য এবং বারবার পরীক্ষাসংক্রান্ত জালিয়াতিতে এর অপব্যবহারের কারণে জরুরি ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প ছিল না। আদালতে দাখিল করা হলফনামায় সরকার জানায়, অবৈধ বিষয়বস্তু সরিয়ে দেওয়ার জন্য বারবার নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। সমস্ত বিকল্প শেষ হওয়ার পরই সাময়িক নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারের দাবি, এনটিএ এমন একাধিক টেলিগ্রাম চ্যানেলের সন্ধান পেয়েছিল, যেখানে নিটের প্রশ্নপত্র বিক্রি এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল। তদন্তাধীন চ্যানেল, গ্রুপ ও বটগুলির মাধ্যমে প্রায় ১.৪৬ লক্ষ অ্যাকাউন্টে পৌঁছনো সম্ভব ছিল।
ভারতীয় সাইবার অপরাধ সমন্বয় কেন্দ্র (আই৪সি)-এর রিপোর্টের উল্লেখ করে কেন্দ্র আরও জানায়, টেলিগ্রামের গোপনীয়তা ব্যবস্থা, বৃহৎ সাবস্ক্রাইবারভিত্তিক চ্যানেল, স্বয়ংক্রিয় বট, দ্রুত বার্তা ফরোয়ার্ড করার সুবিধা এবং ক্লাউডভিত্তিক পরিকাঠামো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
সরকারের মতে, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট চ্যানেল বা বিষয়বস্তু অপসারণ করে সমস্যার সমাধান সম্ভব ছিল না, কারণ কয়েক মিনিটের মধ্যেই নতুন চ্যানেল বা বট তৈরি হয়ে যাচ্ছিল। সেই কারণে পুনঃপরীক্ষার আগে অপব্যবহার রুখতে সাময়িকভাবে পুরো প্ল্যাটফর্মের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত মূল পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় ২২ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীর জন্য আগামী ২১ জুন নিট (ইউজি) ২০২৬-এর পুনঃপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।



















