নয়াদিল্লি, ৪ মে (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক প্রবণতায় বিজেপি এগিয়ে থাকার মাঝেই ফের সামনে এল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র একটি পুরনো মন্তব্য। যেখানে তিনি বাংলায় বিজেপির সম্ভাবনা নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন।
বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পর উদযাপন মঞ্চে মোদী বলেছিলেন, “গঙ্গা বিহার থেকে বাংলায় প্রবাহিত হয়। বিহারের জয়ই বাংলার জয়ের পথ তৈরি করেছে।”
বর্তমান প্রেক্ষাপটে, যখন বাংলায় ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত মিলছে, তখন প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদীর নেতৃত্বে বিজেপির জোরালো প্রচার এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
চূড়ান্ত ফলাফলে যদি এই প্রবণতা বজায় থাকে, তবে স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন করতে পারে।
সোমবার ভোটগণনার প্রথম তিন ঘণ্টা পর দেখা যাচ্ছে, শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের তুলনায় অনেক বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। দুপুর ১২টা ৩০ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ২৯৩টির মধ্যে ২৬৬টি আসনের প্রবণতা প্রকাশিত হয়েছে।
এই সময় পর্যন্ত বিজেপি এগিয়ে ১৭৩টি আসনে, তৃণমূল কংগ্রেস ৯০টি আসনে। বামফ্রন্ট-এআইএসএফ জোট একটি এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) একটি আসনে এগিয়ে।
মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্রে এজেইউপি নেতা হুমায়ুন কবীর এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী-র বিরুদ্ধে এগিয়ে রয়েছেন।
যদিও পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে অধিকারী নিজেই এগিয়ে রয়েছেন, যেখানে তিনি এবারে ভবানীপুরের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিন সকালে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানান, জয়ী দলকে বিজয় মিছিল বের করতে হলে জেলা শাসক ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের পূর্বানুমতি নিতে হবে। তিনি সব রাজনৈতিক দলকেই ফল ঘোষণার পর সংযত থাকার আবেদন জানান।
এদিকে, ২০২১ সালের মতো সম্ভাব্য ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে রাজ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ২১ মে পুনর্ভোট গ্রহণ করা হবে এবং ফল ঘোষণা হবে ২৪ মে।



















