বেঙ্গালুরু, ৪ মে (আইএএনএস): কর্নাটকের শৃঙ্গেরি বিধানসভা কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালট পুনর্গণনার পর বিজেপি প্রার্থী ডি.এন. জীবরাজ কংগ্রেসের বর্তমান বিধায়ক টি.ডি. রাজেগৌড়া-কে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন। সোমবার নির্বাচন আধিকারিক গৌরব কুমার শেট্টি আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন।
কর্নাটক হাই কোর্টের নির্দেশে ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের শৃঙ্গেরি কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটের পুনঃযাচাই ও পুনর্গণনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং রবিবার তার রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়।
সোমবার বিধায়ক হিসেবে শংসাপত্র গ্রহণের পর জীবরাজ বলেন, “তিন বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এই জয় সত্যের জয়।” তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ভোটগণনায় অনিয়ম হয়েছিল এবং পুনর্গণনার সময় আগেই বাতিল হওয়া ভোটে বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়েছে।
জীবরাজের দাবি, ২৫টি করে ভোটের বান্ডিল পুনর্গণনার সময় বাতিল করা হয়েছিল। “আগে বেআইনিভাবে ভোট যোগ করে কাউকে জেতানো হয়েছিল। আমরা তখনই ব্যালটপেপার সুরক্ষিত রাখার দাবি জানিয়েছিলাম,” বলেন তিনি।
জয়ের পর তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রসঙ্গে জীবরাজ বলেন, “হেরে গিয়ে কারচুপির অভিযোগ তোলা ঠিক নয়। ওরা জিতলে সাংবিধানিক জয়, আমরা জিতলে কারচুপি—এই দ্বিচারিতা চলতে পারে না। কোনও ভিত্তি ছাড়াই এফআইআর দায়ের হয়েছে, আমরা সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করব।”
এই প্রসঙ্গে বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি ও বেঙ্গালুরু দক্ষিণের সাংসদ তেজস্বী সূর্য জীবরাজকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী পুনর্গণনার মাধ্যমে এই জয় আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা ও বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা আরও দৃঢ় করল। শৃঙ্গেরির ভোটারদেরও ধন্যবাদ।”
উল্লেখ্য, রবিবার কর্নাটক বিজেপি হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে দ্রুত ফল ঘোষণার দাবি জানায় এবং অভিযোগ করে যে রাজ্যের কংগ্রেস সরকার আধিকারিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে।
যদিও শনিবার কংগ্রেস বিধায়ক রাজেগৌড়া পুনর্গণনার পর নিজেকে জয়ী দাবি করে সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপন করেন।
এদিকে, কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি ডি.কে. শিবকুমার অভিযোগ করেছেন, শৃঙ্গেরি কেন্দ্রে “বৃহৎ ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পিত অপরাধ” ঘটেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য কলঙ্কজনক।



















