নয়াদিল্লি, ১৮ মার্চ : অসমের লোকসভা সাংসদ প্রদ্যুত বরদলৈয়ের কংগ্রেস ছাড়াকে ‘দুঃখজনক’ ও ‘খুবই অনুতাপজনক’ বলে মন্তব্য করলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। বুধবার সংসদ চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, টিকিট বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ থেকেই এই সিদ্ধান্ত হয়ে থাকতে পারে।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, “এটি খুবই দুঃখজনক। আমার মনে হয়, একটি টিকিট বণ্টন নিয়ে তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন। এ বিষয়ে আলোচনার সুযোগ পেলে ভালো হত। বিষয়টি সত্যিই অনুতাপজনক।”
মঙ্গলবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন প্রদ্যুত বরদলৈ। এর মাধ্যমে দলের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের অবসান ঘটে। যদিও ১৭ মার্চের তারিখে লেখা সংক্ষিপ্ত ওই চিঠিতে পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি, সূত্রের দাবি, দলীয় অসন্তোষ এবং অসমের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণের জেরেই এই সিদ্ধান্ত।
এদিকে, পূর্ণিয়ার সাংসদ পাপ্পু যাদব বলেন, কংগ্রেস এই পদত্যাগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই দেখছে। তাঁর কথায়, “বিজেপি প্রায়ই এ ধরনের ভাঙন তৈরি করে। এতে দলের মূল আদর্শে আঘাত না লাগলেও, নির্বাচনের সময় এর প্রভাব পড়তে পারে। শীর্ষ নেতৃত্ব অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবে।”
শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীও উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের নেতাদের বারবার বিজেপিতে টেনে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “কংগ্রেসের নেতাদের বিজেপির দিকে টেনে নেওয়া এবং এমনকি নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরও দলবদল করানো উদ্বেগের বিষয়।”
একই সুরে সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র আশুতোষ বর্মা বলেন, এই পদত্যাগের পিছনে দু’টি কারণ থাকতে পারে। তাঁর মতে, “হয় তিনি কংগ্রেসে প্রাপ্য সম্মান পাননি, নয়তো তাঁর উপর বাহ্যিক চাপ ছিল। গত কয়েক বছরে বহু বিরোধী নেতা বিজেপির দিকে গিয়েছেন।”
সূত্রের খবর, প্রদ্যুত বরদলৈ সম্প্রতি কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে একটি চিঠি লিখে দলের কার্যপদ্ধতি এবং অসম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈয়ের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তবে সেই চিঠি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া না আসায় তাঁর ক্ষোভ আরও বেড়ে যায় বলেই মনে করা হচ্ছে।
অসম কংগ্রেসে এই পদত্যাগ নতুন করে অস্বস্তি বাড়াল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। আসন্ন নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে এই ঘটনায় রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে তার প্রভাব পড়তে পারে বলেও জল্পনা শুরু হয়েছে।

