গুয়াহাটি, ৭ মার্চ : অসম জুড়ে ২২,৯২৩টি মন্দির ও নামঘরের পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে বলে শনিবার জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নে রাজ্য সরকার মোট ৪৩৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। তাঁর কথায়, অসমের সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে মন্দির ও নামঘরগুলির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা লেখেন, “অসমে মন্দির ও নামঘর শুধুমাত্র উপাসনার স্থান নয়; এগুলো আমাদের সমাজজীবনের কেন্দ্র এবং আমাদের ঐতিহ্যের প্রাণ।”
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল এই পবিত্র স্থানগুলিকে সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবিত করা, যাতে এগুলি ভবিষ্যতেও মানুষের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারে।
উল্লেখ্য, নামঘর হল অসমের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক প্রার্থনালয়, যার সূচনা হয়েছিল ১৫শ শতকের বৈষ্ণব সাধক ও সমাজসংস্কারক শ্রীমন্ত শংকরদেব-এর উদ্যোগে। অসমের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনে নামঘরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নামঘরগুলিতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক আলোচনা এবং সম্প্রদায়ের ঐক্য বজায় রাখার নানা কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন কাঠামোর সংস্কার, মৌলিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সহায়তা।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলা, গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মাধ্যমে অসমের সমৃদ্ধ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য পরিকাঠামো আরও উন্নত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

