কাঠমান্ডু, ৫ মার্চ (আইএএনএস): নেপালে উচ্চ ঝুঁকির মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে বৃহস্পতিবার। তবে গত বছরের জেন জেড আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনীতিতে যুব সমাজের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালের বিক্ষোভের জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী
কে. পি. শর্মা ওলির সরকার পতনের পরই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
যুব আন্দোলনের কর্মীরা জানিয়েছেন, নতুন সরকার গঠিত হলেও তাদের আন্দোলন থামবে না। ২৩ বছর বয়সি জেন জেড কর্মী অমৃতা বান বলেন, ভোট চলছে, শিগগিরই নতুন সরকার দায়িত্ব নেবে। কিন্তু আমাদের আন্দোলন শেষ হয়নি। কারণ এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল জবাবদিহি, সুশাসন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই।
কাঠমান্ডুর বিভিন্ন সরকারি ভবনে এখনও ২০২৫ সালের বিক্ষোভের চিহ্ন রয়ে গেছে। অনেক দপ্তরের ভবন, এমনকি সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকাতেও ভাঙচুরের দাগ দেখা যায়। যদিও আন্দোলনকারীদের দাবি, এসব ভাঙচুর তাদের নয়, বরং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রান্তিক গোষ্ঠীর কাজ।
২০২৫ সালে সরকার বড় বড় সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে তার প্রতিবাদে যুব সমাজ রাস্তায় নামে। পরে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, বৈষম্য এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার অভিযোগে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। প্রথমদিকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দ্রুতই বড় সংঘর্ষে পরিণত হয়।
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালালে অন্তত ১৯ জন নিহত হন, যার মধ্যে একজন স্কুলপড়ুয়াও ছিল। ওই ঘটনার পর আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়।
২৫ বছর বয়সি সংগীতশিল্পী ও যুব কর্মী রজত দাস শ্রেষ্ঠ বলেন, যে দলই ক্ষমতায় আসুক, জেন জেড পাহারাদারের মতো নজর রাখবে। দেশ ও নাগরিকদের স্বার্থে সরকার কী করছে, আমরা তা দেখব।
তিনি আরও জানান, জেন জেডের সবাই কোনও এক রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করছে না। অনেকেই এখনও বিকল্প খুঁজছে, কারণ তারা বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা দলগুলির প্রতি সন্তুষ্ট নয়।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের সহিংসতার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ, নিহতদের পরিবারের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ, সব যোগ্য ভোটারের নিবন্ধন এবং দুর্নীতি ও স্বজনপোষণমুক্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থা।
নেপালের বিশ্লেষকদের মতে, যুব সমাজ সরাসরি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পথে না গিয়ে বিদ্যমান দলগুলির প্রার্থীদের সমর্থন করার কৌশল নিয়েছে। সাংবাদিক বিকাশ আচার্য মনে করেন, এতে আন্দোলনকারীরা জনসমর্থনের ভিত্তি বজায় রাখতে পারছে, আবার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাঁধনেও আটকে পড়ছে না।
এদিকে অভিনেত্রী রীচা শর্মা বলেন, এই আন্দোলন দেশের তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক সচেতনতার বড় প্রমাণ। তাঁর কথায়, অনেকে ভাবত জেন জেড শুধু সামাজিক মাধ্যমেই ব্যস্ত। কিন্তু তারা দেখিয়ে দিয়েছে যে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও তারা গভীরভাবে ভাবে।
নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, নেপালের রাজনীতিতে জেন জেডের সক্রিয় ভূমিকা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

