বিজেপির চাপের রাজনীতির ফল নীতীশের রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত: তেজস্বী যাদব

পাটনা, ৫ মার্চ: বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার-এর রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক জল্পনার মধ্যেই বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির চাপের রাজনীতির কারণেই নীতীশ কুমারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পাটনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তেজস্বী যাদব বলেন, “নীতীশ কুমার রাজ্যসভায় যাচ্ছেন, আমরা তাঁর প্রতি সম্পূর্ণ সহানুভূতি জানাই। আমরা জানি তাঁর উপর কী পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। আমরা যদি তাঁর পাশে থাকতাম, তাহলে হয়তো তাঁকে এই অবস্থার মুখোমুখি হতে হত না।”

প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, বিহার বিধানসভা নির্বাচনের সময় একটি “সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র” করা হয়েছিল এবং সেখানে অর্থবল ও প্রশাসনিক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, “যেভাবে অর্থবল ব্যবহার করা হয়েছে এবং গোটা প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে কাজে লাগানো হয়েছে, তাতে আমরা পুরো ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই নির্বাচন লড়েছি।”

তেজস্বী দাবি করেন, বিহারেও মহারাষ্ট্রের মতো রাজনৈতিক কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা তখনই বলেছিলাম, মহারাষ্ট্র মডেলকে আরও সূক্ষ্মভাবে বিহারে প্রয়োগ করা হবে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রীকে কার্যত “হাইজ্যাক” করা হয়েছে এবং বিজেপির সমর্থনে যে কেউ মুখ্যমন্ত্রী হলে তিনি শুধু “রাবার স্ট্যাম্প” হয়ে থাকবেন।

তেজস্বী বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বলেছি মুখ্যমন্ত্রীকে হাইজ্যাক করা হয়েছে, এখন তা প্রমাণিত হয়েছে। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী যে-ই হন না কেন, তিনি শুধু রাবার স্ট্যাম্প হবেন। এটি মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”

পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে একটি উপমা ব্যবহার করে তিনি বলেন, “নীতীশজিকে বর বানিয়ে ঘোড়ায় তোলা হয়েছে, কিন্তু বিয়ের ফেরা অন্য কারও সঙ্গে হবে।”

তেজস্বীর অভিযোগ, বিজেপি এতটাই চাপ তৈরি করেছে এবং মানসিকভাবে নীতীশ কুমারকে এমনভাবে চাপে ফেলেছে যে শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিজেই পদ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছে।

বিজেপিকে নিশানা করে তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন রাজ্যে মিত্রদলগুলিকে দুর্বল করার চেষ্টা করে দলটি। উদাহরণ হিসেবে তিনি এআইএডিএমকে, শিবসেনা, শিরোমণি আকালি দল, পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল লোকদল-এর কথা উল্লেখ করেন।

তাঁর দাবি, “উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম—সব জায়গায় বিজেপি তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাইছে।”

Leave a Reply