নয়াদিল্লি, ৫ মার্চ: আসন্ন জনগণনা ২০২৭ উপলক্ষে চারটি নতুন ডিজিটাল টুল চালু করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাশাপাশি জনগণনার জন্য ‘প্রগতি’ (মহিলা) ও ‘বিকাশ’ (পুরুষ) নামে দুটি মাসকটও উন্মোচন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং (সি-ড্যাক) এই উন্নত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি তৈরি করেছে, যা সারা দেশে জনগণনার তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হবে।
সরকার জানিয়েছে, ভারতের জনগণনা ২০২৭ বিশ্বের বৃহত্তম জনগণনা কর্মসূচি হতে চলেছে এবং এটি দুই ধাপে পরিচালিত হবে। এবারই প্রথম জনগণনা সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হবে এবং প্রথমবারের মতো নাগরিকদের জন্য ‘সেলফ-এনুমারেশন’ বা নিজে তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগও থাকবে।
‘প্রগতি’ ও ‘বিকাশ’ মাসকটের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে জনগণনা সংক্রান্ত তথ্য, উদ্দেশ্য ও বার্তা সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণের প্রতীক হিসেবেও এই মাসকটগুলিকে তুলে ধরা হয়েছে।
জনগণনা পরিচালনায় সহায়তার জন্য চালু করা চারটি ডিজিটাল টুলের মধ্যে রয়েছে হাউসলিস্টিং ব্লক ক্রিয়েটর নামে একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন। এর মাধ্যমে স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে ডিজিটালভাবে হাউসলিস্টিং ব্লক তৈরি করা যাবে, যা ভৌগোলিক কভারেজ নিশ্চিত করতে এবং মানচিত্রের নির্ভুলতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
এছাড়া এইচএলও মোবাইল অ্যাপ নামে একটি নিরাপদ অফলাইন অ্যাপ ব্যবহার করে গণনাকারীরা সরাসরি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে কাগজপত্রের ব্যবহার কমবে এবং তথ্য ডিজিটালভাবে আপলোড করা যাবে।
প্রথমবারের মতো একটি সেলফ-এনুমারেশন পোর্টাল চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে পরিবারের যোগ্য সদস্যরা মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হওয়ার আগেই অনলাইনে নিজেদের তথ্য জমা দিতে পারবেন। তথ্য জমা দেওয়ার পর একটি ইউনিক আইডি দেওয়া হবে, যা পরে গণনাকারীরা যাচাই করবেন।
চতুর্থ প্ল্যাটফর্ম সেন্সাস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম পোর্টাল, যা জনগণনা সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম পরিকল্পনা, পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। জেলা ও রাজ্য স্তরের আধিকারিকরা একটি সমন্বিত ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে রিয়েল টাইমে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, জনগণনা ২০২৭ পরিচালনার জন্য সারা দেশে ৩০ লক্ষেরও বেশি আধিকারিক ও কর্মী মোতায়েন করা হবে।

