আগরতলা, ১ জানুয়ারি : দেরাদুনে খুন হওয়া এমবিএ পড়ুয়া ত্রিপুরার এঞ্জেল চাকমার পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানাতে রাজ্যে এসেছেন উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন সাংসদ তরুণ বিজয়। আজ রাজ্যে এসে তিনি ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু এবং মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক(ডা.) মানিক সাহার সাথে দেখা করেছেন। আগামীকাল তিনি এঞ্জেল চাকমার পরিবারের সাথে দেখা করতে যাবেন। এদিন তিনি রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন, এঞ্জেল চাকমার মৃত্যুতে ত্রিপুরার মতোই সমগ্র উত্তরাখন্ডবাসী গভীর শোকগ্রস্ত। মৃতের পরিবারের পাশে রয়েছে উত্তরাখন্ড সরকার এবং দোষীর সর্বোচ্চ সাজা অবশ্যই নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, আমরা দোষীর ফাঁসি চাইছি।
মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত শেষে তিনি টেলিফোনিক সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন, উত্তরাখন্ডের বিভিন্ন প্রান্তে এঞ্জেল চাকমার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়েছে এবং শোকসভার আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর সাফ কথা, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যুবক-যুবতীদের সাথে গুন্ডামি উত্তরাখন্ড সরকার বরদাস্ত করবে না। পূর্বোত্তরের যুব সম্প্রদায়ের অপমান সমগ্র দেশ এবং জাতির অপমান। এই গর্হিত অপরাধ ক্ষমাহীন এবং দেশদ্রোহীতার সমান।
তিনি বলেন, এঞ্জেল চাকমা হত্যায় জড়িত ছয়জনের মধ্যে পাঁচ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্তকেও অবিলম্বে গ্রেফতার সম্ভব হবে। তিনি জোর গলায় দাবি করেন, ওই ঘটনায় খুনের ধারা রুজু করে অপরাধীর কঠোর সাজা নিশ্চিত করা হবে। তাঁর সাফ কথা, আমরা দোষীর ফাঁসি চাইছি। কারণ, উত্তরাখন্ডের সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রক্তের সম্পর্ক। এই অঞ্চলের বহু ছাত্রছাত্রী উত্তরাখন্ডে পড়াশুনা করছেন। অতীতে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। তাই, এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক সাজা আমরা চাইছি।
এদিন তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এঞ্জেল চাকমা খুনের হৃদয়বিদারক ঘটনা নিয়ে শকুনের রাজনীতি করা হচ্ছে। ওই ঘটনার রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার উচিৎ নয়। সাথে তিনি যোগ করেন, ওই ঘটনার সাথে বিদেশী শক্তির ষড়যন্ত্রের কাহিনী দেশ ও সমাজের জন্য হিতকর নয়। তাঁর দাবি, এঞ্জেলের মৃত্যুতে ত্রিপুরবাসী যতটা কষ্ট পেয়েছেন, ততটাই উত্তরাখন্ডের মানুষও শোকগ্রস্ত। তাই, ওই ঘটনায় রাজনীতি কাম্য নয়।
তিনি জানান, এঞ্জেল চাকমার পরিবারের প্রতি সহানুভূতি এবং সহমর্মিতা জানাতেই ত্রিপুরায় এসেছি। তাঁর পরিবারের জন্য উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সহানুভুতির বার্তা এনেছি। তিনি বলেন, আগামীকাল এঞ্জেল চাকমার পরিবারের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি। রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রীকে সমস্ত বিষয় অবহিত করেছি। তিনি জানান, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রতিনিয়ত উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সাথে ওই ঘটনা নিয়ে যোগাযোগ রেখেছেন।



















