কাবুল, ২২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক রবিবার অভিযোগ করেছে যে পাকিস্তানের সামরিক শাসন নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশের একাধিক আবাসিক এলাকায় প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বহু সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।
মন্ত্রকের দাবি, হামলকটি মাদ্রাসা ও একাধিক বসতবাড়ি লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে নারী ও শিশুসহ “ডজনখানেক সাধারণ মানুষ” নিহত ও আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
কাবুলের অভিযোগ, আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন করে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা পাকিস্তানের বারবার আগ্রাসী আচরণেরই অংশ।
কড়া ভাষায় হামলার নিন্দা করে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায়, এটি আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রকাশ্য লঙ্ঘন এবং “আন্তর্জাতিক আইন, সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতি ও ইসলামী মূল্যবোধের স্পষ্ট বিরোধী”।
মন্ত্রক আরও বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষা করা তাদের “ধর্মীয় দায়িত্ব ও জাতীয় কর্তব্য”। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, “উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত ও পরিমিত জবাব দেওয়া হবে।”
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, “নিরীহ নাগরিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার অকাট্য প্রমাণ। বারবার আগ্রাসন তাদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা আড়াল করতে পারবে না।”
এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন (আইএইচআরএফ) নানগারহারের বেহসুদ জেলায় ভয়াবহ বিমান হামলার যাচাইকৃত খবর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংস্থার দাবি, স্থানীয় সূত্র উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে যে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হামলায় একটি বেসামরিক বাড়ি লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যাতে একই পরিবারের অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের বয়স এক বছরের শিশু থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত।
আইএইচআরএফ জানিয়েছে, “দুই শিশু অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে এবং অন্তত আরও একজন আহত হয়েছেন। এটি শুধু প্রাণহানিই নয়, একটি পারিবারিক বংশের সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনা।”
সংস্থাটি এই হামলার ঘটনায় অবিলম্বে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি হামলার নির্দেশদাতা ও বাস্তবায়নকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং বেহসুদে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কাছে বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আফগান জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে আইএইচআরএফ বলেছে, আফগান বেসামরিক নাগরিকদের জীবন ও অধিকার অবশ্যই সম্মান করতে হবে।
— আইএএনএস

