গৌরনগরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দুই দিনমজুর পরিবারের পাশে এসএইচজি ভিলেজ ফেডারেশন

আগরতলা, ১৮ ফেব্রুয়ারি: গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কৈলাসহর শহরের অন্তর্গত গৌরনগর ব্লক এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই অসহায় দিনমজুর পরিবারের তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আজ দুপুরে গৌরনগর এসএইচজি ভিলেজ ফেডারেশন–এর এক প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির খোঁজখবর নেয়।

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে অনুমান করা হলেও, নাশকতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি। এই অগ্নিকাণ্ডে দিনমজুর দুলাল বাউরি ও মঙ্গলা বাউরি–র তিনটি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। আগুনে তাদের ঘরের কোনো আসবাব বা প্রয়োজনীয় সামগ্রীই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। দুই পরিবার মিলিয়ে মোট ১২ জন সদস্য রয়েছেন, যার মধ্যে দু’জন শিশু ও চারজন স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রী।

ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা আফতাব আলীর অস্থায়ী ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সদস্যরা। অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুধু মৌখিক আশ্বাস মিললেও আজ পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনো আর্থিক বা ত্রাণ সহায়তা পৌঁছায়নি।

এমন পরিস্থিতিতে বুধবার দুপুরে গৌরনগর এসএইচজি ভিলেজ ফেডারেশন–এর এক প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির খোঁজখবর নেয়। প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সভাপতি নমিতা দেবনাথ, সম্পাদক উমা দেবনাথ, কোষাধ্যক্ষ নাজমা বেগম সহ অন্যান্য সদস্যরা। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দুলাল বাউরি ও মঙ্গলা বাউরির হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ফেডারেশনের সভাপতি নমিতা দেবনাথ জানান, দুলাল ও মঙ্গলা দু’জনেই দিনমজুর। শুধুমাত্র গরিব বললে তাদের পরিস্থিতি পুরোটা বোঝানো যায় না। এই অগ্নিকাণ্ডে তারা শতভাগ নিঃস্ব হয়ে গেছেন। তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে এই দুই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, ঘটনার এতদিন পরেও স্থানীয় গৌরনগর গ্রাম পঞ্চায়েত–এর পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর সহায়তা না আসায় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave a Reply