আগরতলা, ১৬ ফেব্রুয়ারি: পর্যটনে সমৃদ্ধ রাজ্যের অভিজ্ঞতা পুঁজি বানিয়ে ত্রিপুরাকে শক্তিশালী পর্যটক বান্ধব রাজ্যে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটনকে আরও শক্তিশালী করতে সেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল ত্রিপুরা গ্রামীণ জীবিকা মিশন (টিআরএলএম)। উদীয়মান পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে হোমস্টে চালু ও প্রসারের লক্ষ্যে সংস্থাটি প্রথমবারের মতো বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে টিআরএলএম রাজ্যের নয়জন সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)-কে সফল হোমস্টে মডেল পর্যালোচনা করতে হিমাচল প্রদেশ সফরে পাঠিয়েছে। সেখানে তাঁরা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য ধানী দেবী পরিচালিত খুশবু হোমস্টে-এর কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
এছাড়া ওই আধিকারিকরা কুল্লু জেলার নাগ্গর ব্লকের ব্রড গ্রামে গ্রাম পঞ্চায়েত শালিনের অধীন শিব শক্তি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। আলোচনায় কমিউনিটি-পরিচালিত পর্যটন ব্যবস্থায় অবকাঠামো উন্নয়ন, আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতার মান, আয় সৃষ্টির পদ্ধতি এবং গ্রামীণ পর্যটন টিকিয়ে রাখতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
হিমাচল প্রদেশের সফল হোমস্টে ব্যবস্থায় অনুপ্রাণিত হয়ে টিআরএলএম এখন ত্রিপুরার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রে একই ধরনের মডেল চালুর রোডম্যাপ প্রস্তুত করছে। সম্ভাব্য এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে জম্পুই পাহাড়, ঊনকোটি, ডুম্বুর লেক, ছবিমুড়া, কালাঝাড়ি পাহাড়, মাতাবাড়ি, মনু বনকুল এবং সিপাহীজলা।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদ্যোগ টিআরএলএমের বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যার লক্ষ্য পর্যটন-নির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধি করা। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের কাছে ৭০ কোটিরও বেশি টাকার বাজেট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যা রাজ্যজুড়ে কমিউনিটি-পরিচালিত পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
এই হোমস্টে প্রকল্পের মাধ্যমে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে গ্রামীণ মহিলাদের ক্ষমতায়ন, টেকসই আয় সৃষ্টি এবং ত্রিপুরাকে সংস্কৃতিসমৃদ্ধ ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার আশা করা হচ্ছে। এই প্রথম এমন উদ্যোগের মাধ্যমে হিমাচল প্রদেশের কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন মডেলের সাফল্য অনুসরণ করে আগামী কয়েক বছরে ত্রিপুরার গ্রামীণ পর্যটনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়েছে টিআরএলএম।

