বাংলায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন : আবাসন ঋণ অনুমোদনপত্র বৈধ পরিচয়পত্র নয়, জানাল নির্বাচন কমিশন

কলকাতা, ১৬ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় আবাসন প্রকল্পের আর্থিক সহায়তার অনুমোদনপত্রকে বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)।

এই বিষয়ে নয়াদিল্লিতে কমিশনের সদর দফতর থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে চিঠিও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কমিশন সূত্রে খবর, যে সব আবাসন প্রকল্পের আর্থিক সহায়তার অনুমোদনপত্র বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না, তার মধ্যে রয়েছে ইন্দিরা আবাস যোজনা (আইএওয়াই), প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (পিএমএওয়াই) এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প।

কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়। কারণ, ইসিআই নির্ধারিত ১৩টি বৈধ পরিচয়পত্রের তালিকায় “সরকারের তরফে প্রদত্ত যে কোনও জমি/বাড়ি বরাদ্দের শংসাপত্র” অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে সিইও দফতরের এক আধিকারিক জানান, “সরকারি জমি বা বাড়ি বরাদ্দের শংসাপত্র” এবং “কেন্দ্র বা রাজ্যের আবাসন আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের অনুমোদনপত্র”—এই দুটির মধ্যে আইনি ও প্রকৃতিগত পার্থক্য রয়েছে।

তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জমি বা বাড়ি বরাদ্দের শংসাপত্রে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকে কোন জমি বা কোন বাড়ি সংশ্লিষ্ট ভোটারকে বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু আবাসন প্রকল্পের আর্থিক সহায়তার অনুমোদনপত্রে কেবল আর্থিক অনুদানের বিষয়টি উল্লেখ থাকে, নির্দিষ্ট জমি বা বাড়ির মালিকানা বা বরাদ্দের তথ্য থাকে না।

“দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ভোটার আর্থিক সহায়তা পান এবং সেই অর্থ দিয়ে নিজ উদ্যোগে বাড়ি নির্মাণ বা ক্রয় করেন। কিন্তু পিএমএওয়াই/আইএওয়াই/বাংলার বাড়ি প্রকল্পের অনুমোদনপত্রে নির্দিষ্ট জমি বা বাড়ি চিহ্নিত করা থাকে না। তাই এগুলিকে জমি বা বাড়ি বরাদ্দের শংসাপত্রের সমতুল্য ধরা যায় না,” বলেন ওই আধিকারিক।

তিনি আরও জানান, খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে দাবি ও আপত্তি শোনার পর্বের শুরুতেই কমিশন এই পার্থক্য স্পষ্ট করেছিল। তবুও কয়েকজন নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ইআরও) এবং সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (এএইআরও) শুনানি চলাকালীন এই ধরনের আর্থিক সহায়তার অনুমোদনপত্রকে বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

কমিশন চাইলে সংশ্লিষ্ট ইআরও এবং এএইআরওদের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করতে পারে বলেও সিইও দফতর সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
_____

Leave a Reply