বেঙ্গালুরু, ১৬ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): কর্ণাটকের কোপ্পল জেলার গঙ্গাবতীর প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও সেশনস আদালত সোমবার হামপি গণধর্ষণ-খুন মামলায় তিন দোষীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করল। গত বছর সানাপুরা লেকের কাছে এক ইজরায়েলি পর্যটক ও এক ভারতীয় মহিলাকে গণধর্ষণ এবং এক পুরুষ পর্যটককে খুনের ঘটনায় এই সাজা ঘোষণা করা হয়। ঘটনাস্থলটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হামপি-র নিকটবর্তী।
প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও সেশনস আদালতের বিচারক সদানন্দ নাগাপ্পা নায়ক দোষী মল্লেশ ওরফে হান্ডি মল্লেশ, সাই ও শরনাপ্পাকে ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেন। গত সপ্তাহেই আদালত তিন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল এবং শাস্তির পরিমাণ সংরক্ষিত রেখেছিল।
রায়ে আদালত পর্যবেক্ষণ করে, অপরাধটি ‘বিরলতমের মধ্যে বিরল’ শ্রেণিভুক্ত। মাত্র ১১ মাসের মধ্যে রায় ঘোষণাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে সানাপুরা লেক ও তুঙ্গভদ্রা খালের কাছে ঘটে। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ এক ভারতীয় হোমস্টে-মালিক তাঁর অতিথিদের— মহারাষ্ট্রের পঙ্কজ, ওডিশার বিবাস, এক মার্কিন পর্যটক ড্যানিয়েল এবং এক ইজরায়েলি মহিলাকে— তারামণ্ডল দেখাতে নিয়ে যান।
সরকারি কৌঁসুলি নাগালক্ষ্মীর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে এসে পর্যটকদের সঙ্গে টাকার বিষয় নিয়ে বচসায় জড়ায়। এরপর তারা তিন পুরুষ পর্যটককে খালে ঠেলে ফেলে এবং পাথর ছুড়ে পালাতে বাধা দেয়। খাল থেকে উঠতে না পেরে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। এরপর ভারতীয় হোমস্টে-মালিক ও ইজরায়েলি পর্যটককে যৌন নির্যাতন করা হয়।
গঙ্গাবতী গ্রামীণ থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে চার্জশিট দাখিল করে।
ঘটনাটি দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে এবং হামপি-সহ জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমে যায়। বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি কর্ণাটকের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারকে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির জন্য দায়ী করে কড়া সমালোচনা করেছিল।
বিরোধী দলনেতা আর. অশোকা দাবি করেন, “এই ঘটনা হামপির মতো আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রের উপর স্থায়ী কালিমা এঁকে দিয়েছে। বিদেশি পর্যটকদের আস্থা ফিরতে বহু বছর সময় লাগবে।”
_____

