লখনউ, ১৬ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): ২০১৭ সালের পর থেকে উত্তরপ্রদেশে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে এবং ‘দাঙ্গা ও অরাজকতা’র ভাবমূর্তি ঝেড়ে ফেলে রাজ্য এখন ‘প্রযুক্তি, আস্থা ও রূপান্তর’-এর রাজ্যে পরিণত হয়েছে— সোমবার বিধান পরিষদে এমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনার জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যপালের ভাষণের সময় বিরোধীদের আচরণ সাংবিধানিক পরম্পরার প্রতি অসম্মান এবং তা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে।
যোগী দাবি করেন, একসময় যে রাজ্য ‘কারফিউ ও দাঙ্গা’র জন্য পরিচিত ছিল, সেখানে এখন ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর কথায়, “উত্তরপ্রদেশ ‘ফিয়ার জোন’ থেকে ‘ফেইথ জোন’-এ রূপান্তরিত হয়েছে।”
মহাশিবরাত্রিতে ত্রিবেণী স্নানে ৪০ লক্ষেরও বেশি ভক্তের অংশগ্রহণকে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। জানান, রাজ্যে ৪৪ হাজারের বেশি মহিলা পুলিশকর্মী নিয়োগ হয়েছে এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ব্যারাক নির্মাণের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিকাঠামো জোরদার করা হয়েছে।
একসময় ‘বিমারু’ রাজ্য হিসেবে পরিচিত উত্তরপ্রদেশ এখন জাতীয় জিডিপিতে ৯.৫ শতাংশ অবদান রাখছে এবং মাথাপিছু আয় তিনগুণ বেড়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। গত সাড়ে আট বছরে নতুন কোনও কর আরোপ করা হয়নি, কর ফাঁকি রোধ করা হয়েছে এবং রাজ্য এখন রাজস্ব উদ্বৃত্ত— এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
শিল্পোন্নয়নের প্রসঙ্গে যোগী জানান, ২০১৭ সালের আগে যেখানে কারখানার সংখ্যা ছিল প্রায় ১৪ হাজার, এখন তা বেড়ে ৩১ হাজারের বেশি হয়েছে। ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় উৎপাদকদের বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে এবং ৯৬ লক্ষ এমএসএমই ইউনিটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কারিগরদের সম্মান না করলে সমাজবাদী পার্টির মতো দলের পরিণতি ভোগ করতে হয় বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
কৃষি ক্ষেত্রে ২০১৭ সালের আগে সুসংহত নীতি ছিল না বলে দাবি করে যোগী বলেন, এখন উৎপাদন খরচ কমেছে ও উৎপাদন বেড়েছে। সরাসরি উপভোক্তা হস্তান্তর (ডিবিটি)-র মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি-র আওতায় উত্তরপ্রদেশে ৯৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বিতরণ হয়েছে। আখচাষিদের ৩.০৬ লক্ষ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং রাজ্যে ৭,৭২৭টি গোশালা চালু রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট, ওয়ান মেডিক্যাল কলেজ’ উদ্যোগের অগ্রগতি এবং ফরেনসিক পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগে যেখানে দুটি ফরেনসিক ল্যাব ছিল, এখন সেখানে ১২টি এ-গ্রেড ল্যাব রয়েছে এবং আরও ছয়টি নির্মীয়মাণ।
জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গানের প্রতি সম্মান বাধ্যতামূলক এবং ‘বন্দে মাতরম’-এর বিরোধিতা বরদাস্ত করা হবে না।

