শুধু আগরতলা নয় সমগ্র রাজ্যের সমান উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১৩ ফেব্রুয়ারি: দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে রাজ্যে উন্নয়নের এক নতুন কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। সমাজের অন্তিম মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একযোগে কাজ করছে। আজ উদয়পুরে তিনটি প্রকল্পের ভার্চুয়াল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পগুলি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, পরিবেশ সংরক্ষণ, নগরায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত উন্নতির শিখরে পৌঁছাবে এবং এই লক্ষ্যে সকলকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দ্রুত কর্মসূচি রূপায়ণ করছে এবং মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লক্ষ্য গরীব, কৃষক, মহিলা ও যুব সমাজের সার্বিক উন্নয়ন। তিনি দেশের একজন সৎ অভিভাবক হিসেবে সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশকে সুরক্ষিত রেখেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরায় বর্তমানে প্রায় ১.৩০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলছে। মহাকরণ থেকে পঞ্চায়েত পর্যন্ত পেপারলেস প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু হয়েছে। গোয়া ও মিজোরামের পর ত্রিপুরা পূর্ণ সাক্ষর রাজ্যের মর্যাদা অর্জন করেছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক স্তরে মিলিয়ে রাজ্য ৩৪৭টি পুরস্কার লাভ করেছে। পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নে শীঘ্রই বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালু হবে বলে তিনি জানান। আগরতলা থেকে উদয়পুর পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজও শুরু হবে। তিনি বলেন, শুধু আগরতলার উন্নয়ন নয়, সমগ্র রাজ্যের সমান উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য। উদয়পুরের টেপানিয়াতে একটি আয়ুর্বেদিক হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজ্যে ৪৫০ জন শিক্ষার্থী একসঙ্গে এম.বি.বি.এস. এবং ৬৩ জন বি.ডি.এস. পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। একটি হেলথ ইউনিভার্সিটি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও জানান, রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৯২৩ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক রয়েছে, যা আগে ছিল মাত্র ১৯৮ কিলোমিটার।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় বলেন, সমগ্র রাজ্যের পাশাপাশি উদয়পুর শহরকে পরিকল্পিতভাবে সাজিয়ে তোলার জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। বন্যার হাত থেকে উদয়পুর শহরকে রক্ষা করতে নদীভাঙন প্রতিরোধে রাস্তা নির্মাণ ও বোল্ডার বসানোর কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়াও জগন্নাথ দীঘির সৌন্দর্যায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

পর্যটন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়ে বনদুয়ারে ৫০টি পীঠ মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহাদেব দীঘির সৌন্দর্যায়নের কাজ চলমান রয়েছে। খুব শীঘ্রই অমর সাগরের সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হবে, যার জন্য ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি সহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গোমতী জেলার জেলাশাসক রিঙ্কু ল্যাথের এবং সভাপতিত্ব করেন গোমতী জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার, উদয়পুর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন শীতল চন্দ্র মজুমদার, পুলিশ সুপার ডা. কে. কিরণ কুমার প্রমুখ। উল্লেখ্য, প্রকল্প তিনটি হলো এস.টি.পি. প্রকল্প, রিভারফ্রন্ট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প এবং কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৮৩ কোটি টাকা।

Leave a Reply