নয়াদিল্লি, ৫ ফেব্রুয়ারি : দীর্ঘ ২২ বছরের ব্যবধান। ২০০৪ সালের পর এই প্রথমবার বৃহস্পতিবার লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জবাব ছাড়াই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব অনুমোদিত হল। বাজেট অধিবেশনের সময় সংসদের যৌথ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর প্রধানমন্ত্রী সাধারণত যে জবাব দেন, তা এদিন আর দেওয়া হয়নি। বুধবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর জবাব দেওয়ার কথা ছিল। তবে বিরোধী সাংসদদের টানা হইচই ও স্লোগান-চালানোর জেরে লোকসভার অধিবেশন মুলতবি করে দেন স্পিকার।
বৃহস্পতিবার লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা সংসদের যৌথ অধিবেশনে গত ২৮ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির দেওয়া ভাষণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রস্তাবটি পাঠ করে শোনান। বিরোধী সদস্যদের স্লোগানের মধ্যেই ধ্বনি ভোটে এই প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরিস্থিতির কোনও উন্নতি না হওয়ায় অধ্যক্ষ লোকসভা অধিবেশন দুপুর ২টো পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে লোকসভার অধিবেশন শুরু হতেই ইন্ডিয়া ব্লকের সাংসদরা প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। এর জেরে অধিবেশন দ্রুত মুলতবি হয়ে যায়।
বিরোধী সাংসদরা অভিযোগ করেন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে সংসদে বক্তব্য রাখার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে ২০২০ সালের ভারত-চীন সীমান্ত সংঘর্ষ সংক্রান্ত সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নরবণের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা উদ্ধৃত করার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তোলা হয়। এই ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে টানা প্রতিবাদ চালাচ্ছে বিরোধী দলগুলি।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সরকার ও বিরোধীদের সংঘাত চরমে পৌঁছয়, যখন বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগে কংগ্রেসের আটজন সাংসদকে বাজেট অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য বরখাস্ত করা হয়।
২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবে জবাব দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসের যোগাযোগ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ২০০৫ সালের ১০ মার্চ মনমোহন সিংয়ের ভাষণের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওটিতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০০৪ সালের ১০ জুন তাঁকে কীভাবে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবে জবাব দিতে দেওয়া হয়নি।

