সুকমা, ৩০ জানুয়ারি: ছত্তীসগঢ়ের সুকমা জেলায় বৃহস্পতিবার পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে চার মাওবাদী। এদের মাথার উপর মোট ₹৮ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে দুইজন মহিলা রয়েছেন।
জানা গেছে, চারজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সরকার ঘোষিত আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতি অনুযায়ী তাঁদের আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে, যাতে তারা মূল স্রোতের সমাজে পুনর্বাসিত হতে পারেন।
আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে একটি এসএলআর রাইফেল, একটি ইনসাস রাইফেল, একটি .৩০৩ রাইফেল ও একটি .৩১৫ বোর রাইফেল, সঙ্গে গুলিও উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কর্তারা জানান, কিস্তারাম ও গোলাপল্লি এলাকায় সদ্য স্থাপিত নিরাপত্তা শিবিরগুলি এই আত্মসমর্পণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এর ফলে রাস্তা যোগাযোগ উন্নত হয়েছে এবং ধারাবাহিক মাওবাদী-বিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় জঙ্গিদের চলাচল ও কার্যক্ষেত্র অনেকটাই সীমিত হয়েছে।
প্রশাসনের মতে, দূরবর্তী গ্রামগুলিতে ভয় ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে মাওবাদীরা প্রভাব বিস্তার করেছিল। তবে সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কাজ প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছনোর ফলে সেই প্রভাব কমেছে এবং প্রশাসনের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা বেড়েছে।
সুকমার পুলিশ সুপার কিরণ চাভান বাকি সশস্ত্র মাওবাদীদের সহিংসতার পথ ছেড়ে মূল ধারায় ফেরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এতে মর্যাদাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ জীবনের সুযোগ রয়েছে।
বাস্তার রেঞ্জের আইজি পি সুন্দররাজ বলেন, লাগাতার নিরাপত্তা অভিযান এবং উন্নয়নমূলক কাজের বিস্তারের ফলে মাওবাদী সংগঠন ভেঙে পড়ার মুখে। তিনি বলেন, “হিংসা কেবল ধ্বংস ডেকে এনেছে, অন্যদিকে ‘পুনা মারগেম’ (পুনর্বাসন) অভিযান উন্নয়ন, মর্যাদা ও সমাজে পুনঃএকত্রীকরণের পথ দেখাচ্ছে।” তিনি অন্য মাওবাদীদেরও একই পথে হাঁটার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, জোরদার মাওবাদী-বিরোধী অভিযানের মধ্যে ইতিমধ্যে শতাধিক মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে বা নিহত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে বামপন্থী উগ্রবাদ দমনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। গত বছরের মে মাসে মাওবাদী শীর্ষ নেতা নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বসবরাজু নিহত হওয়াকে সাম্প্রতিক বছরগুলির অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

