ধান সংগ্রহ রাজ্যভিত্তিক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ধর্মনগরে

ধর্মনগর, ২৮ জানুয়ারি: খরিফ মরশুম ২০২৫–২৬ (প্রথম ফসল) উপলক্ষে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের রাজ্যভিত্তিক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হল উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরে। বুধবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ ধর্মনগরের বিবেকানন্দ স্বার্থ শতবার্ষিকী ভবনে ধর্মনগর মহকুমা খাদ্য ও কৃষি দপ্তরের উদ্যোগে এই কর্মসূচির সূচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খাদ্য, সিভিল সাপ্লাই ও ভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। যদিও কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথের উপস্থিত থাকার কথা ছিল, অন্য কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি।

অনুষ্ঠানস্থলে কৃষকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাজ্যের তাঁত শিল্পীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী গামছা দিয়ে কৃষকদের বরণ করে নেওয়া হয়, যা উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং অনুষ্ঠানে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা নাথ, বিধায়ক যাদব লাল নাথ এবং সিপিআইএম বিধায়ক শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুবরাজনগর, কদমতলা ও কালাছড়া পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সনগণ, ধর্মনগর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন, খাদ্য দপ্তরের বিশেষ সচিব দেবপ্রিয় বর্ধন, উত্তর ত্রিপুরার জেলাশাসক চাঁদনি চন্দ্রন এবং খাদ্য দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব সুমিত লোধ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সমাজকর্মী কাজল দাস।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, ২০১৭ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে প্রতি কুইন্টাল ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ১,৭৫০ টাকা নির্ধারণ করে বছরে দুটি মরশুমে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যের প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার কৃষক এই প্রকল্পের আওতায় ধান বিক্রি করছেন এবং এ পর্যন্ত মোট ৪৮৯ কোটি টাকা সরাসরি কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, এ বছর কিছুটা বিলম্ব হলেও আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান সংগ্রহ প্রক্রিয়া শুরু হল, যা প্রায় এক মাসব্যাপী চলবে। রাজ্যের আটটি জেলা থেকে মোট ১৮ হাজার মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর ত্রিপুরা জেলা থেকে প্রায় ১,৫০০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। এদিন উত্তর জেলার ধর্মনগর মহকুমার বিভিন্ন গ্রামের ছয়জন কৃষকের কাছ থেকে প্রতীকীভাবে ধান সংগ্রহ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা জানান, নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী স্বচ্ছ ও নিয়মনীতি মেনে ধান সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। কৃষকদের গামছা দিয়ে বরণ করার উদ্যোগকে অভিনব বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী কৃষি ও খাদ্য দপ্তরকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, যতদিন রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকবে, ততদিন ন্যূনতম সহায়ক মূল্য অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ প্রফেসর মানিক সাহার দিশানির্দেশে কৃষকদের আর্থিক অবস্থাকে আরও মজবুত করতে রাজ্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে। পাশাপাশি তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের শিল্পীবৃন্দ উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন, যা অনুষ্ঠানে এক সাংস্কৃতিক আবহ সৃষ্টি করে।

Leave a Reply