আগরতলা, ২৪ জানুয়ারি: রাজ্যের কৃষকগণ বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন ফুল ও বাহারী পাতার চাষ করে আজ স্বয়ম্ভরতার পথে এগিয়ে চলেছেন। কৃষক সমাজ স্বাবলম্বী না হলে দেশ তথা রাজ্য স্বাবলম্বী হতে পারে না। কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলি হল রাজ্যের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার কৃষকদের আর্থ-সামাজিক মান উন্নয়নে নানা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ গতকাল আগরতলার রবীন্দ্র কাননে আয়োজিত ৪ দিন ব্যাপী ৪০তম বার্ষিক পুষ্প ও বাহারী পাতার প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করে একথা বলেন। ত্রিপুরা উদ্যান পালন সমিতি এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। প্রদর্শনীতে ১৯৬ জন কৃষক মোট ৭২৩টি প্রদর্শনী উপস্থাপন করেছেন। প্রদর্শনী রোজ দুপুর ২ টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। চলবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত।
এই প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করে কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, এই ধরনের ফুলের মেলা আমাদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়। তাই আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতে ফুলচাষ করা দরকার। তিনি বলেন, ফুলচাষ আজ কৃষি ভিত্তিক শিল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহু যুবক-যুবতী, কৃষক ও নারী ফুল চাষকে আজ পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে ২৭৩৮ কানিতে ফুলচাষ হতো। এখন হয় ১১ হাজার ৮২০ কানিতে। আগে রাজ্যে ২ ১৯০ জন ফুলচাষী ছিলেন। এখন ফুলচাষ করছেন ৫৯ হাজার ১০০ জন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার লেম্বুছড়ার ৬৫ কানি জমিতে বিভিন্ন রকমের ফুল চাষের জন্য একটা সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এটি ইন্দো-ডাচ প্রকল্পে গড়া হবে। এছাড়া বাধারঘাটে ৪০০ বর্গমিটার এলাকায় অর্কেডিয়াম ও নানা ফুলচাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশালগড় মহকুমার লক্ষ্মীবিলে ১৩০ কানি জমিতে ৩০০টি পরিবার ফুল চাষে যুক্ত রয়েছেন। তিনি বলেন, একটা সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য বহিঃরাজ্য থেকে আমাদের রাজ্যে প্রচুর পরিমানে ফুল আমদানি করতে হতো। কিন্তু আজ আমাদের রাজ্যে গ্ল্যাডিওলাস, চন্দ্রমল্লিকা, সূর্যমুখী, রকমারী গাঁদা, অ্যান্থেরিয়াম, নানা পাতা বাহার চাষ করে কৃষকরা স্বয়ম্ভরতার পথে এগিয়ে চলেছেন। তিনি বলেন, আগে রাজ্যে চাহিদার ২৫ শতাংশ ফুল উৎপাদন হতো। এখন হয় ৪৩ শতাংশ। আমরা আরও উৎপাদন বাড়াতে চাই।
বিশেষ অতিথির ভাষণে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সচিব তথা ত্রিপুরা উদ্যান পালন সমিতির সভাপতি অপূর্ব রায় বলেন, জনসাধারণকে ফুলচাষে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা উদ্যান পালন সমিতির সচিব তথা উদ্যান পালন ও ভূমি সংরক্ষণ দপ্তরের উপ-অধিকর্তা সুজিত দাস। অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী সমিতির একটি স্মরনিকার আবরণ উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘বন্দেমাতরম’ গীত পরিবেশন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, উদ্যান পালন ও ভূমি সংরক্ষণ দপ্তরের অধিকর্তা ড. ফনীভূষণ জমাতিয়া প্রমুখ। আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন উদ্যান পালন ও ভূমি সংরক্ষণ দপ্তরের সহ অধিকর্তা সুব্রত দাস।

