প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “বুথ স্তরের কর্মকর্তারা নির্বাচনী গণতন্ত্রের ভিত্তি”

নয়াদিল্লি, ২১ জানুয়ারি : ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আজ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট ২০২৬ সম্মেলনে ভাষণ প্রদান করেন। তিনি বলেন, “বুথ স্তরের কর্মকর্তারা হলেন দেশের নির্বাচনী গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ।” তিনি আরো বলেন, “ভারত হচ্ছে গণতন্ত্রের মাতৃভূমি এবং প্রতিটি যোগ্য ভোটারের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে সঠিক নির্বাচন তালিকা তৈরি করা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য অপরিহার্য।”

গণতন্ত্রের ইতিহাসে ভারতের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “ভারত হলো গণতন্ত্রের মাতৃভূমি।” তিনি সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে সম্মেলনের পটভূমিতে থাকা স্তূপ এবং অশোক স্তম্ভের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, যা প্রাচীন গণতান্ত্রিক চিন্তা ও পরম্পরার সূচনা হিসেবে খ্যাত। তিনি আরও বলেন, সম্মেলনের পটভূমিতে থাকা একটি সংস্কৃত মন্ত্র, যা অথর্ববেদ থেকে নেওয়া, প্রাচীন ভারতীয় গ্রাম সমিতি ও কমিটির ধারণাকে ব্যাখ্যা করে, যা বর্তমান সময়ের বহু বছর আগে রচিত।

এ সময় তিনি বলেন, “নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর কাজ গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।” তিনি ভারতের বিশাল নির্বাচন ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, “ভারত ২৮টি রাজ্য এবং ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নির্বাচন পরিচালনা করে, যা পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ নির্বাচনী ব্যবস্থা।”

সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে নির্বাচন কমিশনার ড. সুখবীর সিং সান্ধু এবং ড. বিবেক যোশী সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র ও নির্বাচনী সহায়তা ইনস্টিটিউটের সেক্রেটারি জেনারেল ড. কেভিন কাসাস-জামোরা উদ্বোধনী সেশনে অংশগ্রহণ করেন।

এই তিন দিনব্যাপী সম্মেলনটি ভারতের ইতিহাসে গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন হিসেবে পরিচিত হতে চলেছে। বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের প্রায় ১০০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধির অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

Leave a Reply