শ্রীনগর, ১৬ জানুয়ারি :
জম্মু ও কাশ্মীরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার কিছুটা উন্নতি হয়েছে শুক্রবার। আবহাওয়া দফতরের মতে, রাতভর মেঘলা আকাশ থাকার ফলেই এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। একই সঙ্গে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে পরপর তিনটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয় হয়ে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
লাদাখ আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা সোনম লোটাস আইএএনএস-কে জানান, “১৬ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে তিনটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রথমটি তুলনামূলকভাবে দুর্বল এবং বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখে সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে উঁচু এলাকায় হালকা বৃষ্টি বা তুষারপাত হতে পারে, তবে সমতলে বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম।”
তিনি আরও জানান, “দ্বিতীয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝাটি ১৮ থেকে ২০ জানুয়ারির মধ্যে সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে মূলত উঁচু এলাকায় হালকা বৃষ্টি বা তুষারপাত হতে পারে, সমতলে তেমন উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। তৃতীয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝাটি ২০ জানুয়ারির বিকেল থেকে ২৪ জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে। এটি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হবে এবং এর প্রভাবে উপত্যকার উঁচু অঞ্চল ও সমতল—উভয় এলাকাতেই মাঝারি থেকে ভারী তুষারপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
এই পূর্বাভাসে স্বস্তি পেয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দারা। কারণ, চলতি শীত মৌসুমে এখনও পর্যন্ত শ্রীনগর শহর ও উপত্যকার সমতল এলাকায় প্রথম তুষারপাত হয়নি।
প্রসঙ্গত, ‘চিল্লাই কালান’ নামে পরিচিত কড়া শীতের ৪০ দিনের সময়কাল শুরু হয়েছে ২১ ডিসেম্বর থেকে এবং তা শেষ হবে ৩০ জানুয়ারি। চিল্লাই কালানের আর মাত্র ১৪ দিন বাকি থাকলেও এখনও পর্যন্ত অঞ্চলের জলাধার ও প্রাকৃতিক জলভাণ্ডারগুলি পর্যাপ্ত তুষারে ভরেনি। এই সময়ের মধ্যে বড় ধরনের তুষারপাত না হলে আগামী গ্রীষ্মে জম্মু ও কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ অংশে তীব্র জলসংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, শুক্রবার শ্রীনগরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গুলমার্গে মাইনাস ২.৩ এবং পহেলগামে মাইনাস ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। জম্মু শহরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৪.৭ ডিগ্রি, কাটরায় ৮.৮, বাটোতে ৭.৭, বানিহালে ২.৯ এবং ভাদেরওয়াহে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
2026-01-16

