মস্কো, ১৪ জানুয়ারি : রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। রাশিয়া এই হুমকিকে “সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য” হিসেবে আখ্যা দিয়ে, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর পরিণতির সতর্কতা দিয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই বিবৃতিতে মস্কো ইরানে চলমান প্রতিবাদ এবং কঠোর দমন-পীড়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। রাশিয়া পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের সামাজিক সমস্যাগুলো আরো বৃদ্ধি করার অভিযোগ তুলেছে, বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা এবং বহিরাগত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান চালায়, তবে এর ফলস্বরূপ “বিপর্যয়কর পরিণতি” হবে যা মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত প্রভাব ফেলবে। রাশিয়ার কর্মকর্তারা এই হুমকিকে প্ররোচনামূলক এবং উত্তেজনাপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছেন, বিশেষ করে ইরানের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলির প্রেক্ষাপটে। তারা আরও বলেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে দেশটিকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা, এক ধরনের অর্থনৈতিক কালোমেল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাশিয়া দাবি করেছে যে, ইরানের বিস্তৃত প্রতিবাদগুলি গভীর সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সমস্যার ফলস্বরূপ, যা মূলত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে তীব্র হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় “শত্রুতাপূর্ণ বাহিনীর” কথা উল্লেখ করেছে, যারা এই অস্থিরতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে, এবং দাবি করেছে যে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষিত এবং সশস্ত্র উসকানিরা প্রতিবাদীদের মধ্যে সহিংসতা উস্কে দেওয়ার জন্য ইরানে পাঠানো হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে, বুধবারের প্রারম্ভিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অন্তত ২,৫৭১ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ২,৪০৩ জন প্রতিবাদী, ১৪৭ জন সরকারি কর্মকর্তা, ১২ জন শিশু, ৯ জন নিরীহ সাধারণ নাগরিক এবং ১৮,১০০ জনের বেশি গ্রেপ্তার রয়েছে।
ইরানের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে তথ্য প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায়, স্বাধীনভাবে পরিস্থিতি যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও এই তথ্য যাচাই করতে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, এবং তেহরানও কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি। এই হতাহতের সংখ্যা ইরানে চলমান যে কোনো বড় আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরবর্তী বিশাল অস্থিরতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মস্কো আশা প্রকাশ করেছে যে, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হবে এবং রুশ নাগরিকদের ইরানে জনসমাগম এড়াতে পরামর্শ দিয়েছে।
রাশিয়ার এই হস্তক্ষেপ ইরান ও মস্কোর সম্পর্কের গভীরতর হওয়া এবং মার্কিন প্রভাবের বিরুদ্ধে রাশিয়ার অবস্থানকে তুলে ধরে। মার্কিন হুমকিগুলিকে প্রতিবাদের অপব্যবহারের সাথে যুক্ত করে, রাশিয়া ওয়াশিংটনকে অস্থিরতা সৃষ্টিকারী শক্তি হিসেবে চিত্রিত করেছে। এই বিবৃতি রাশিয়ার ইরানকে বহিরাগত চাপ থেকে রক্ষা করার পরিকল্পনাকে প্রতিফলিত করে, যা কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে, বিশেষ করে যখন ইরানে প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে।

