সামরিক ব্যয় বাড়লেও বৈশ্বিক স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ উদ্বেগজনকভাবে কমছে: হুঁশিয়ারি ডব্লিউএইচও প্রধানের

জেনেভা, ১০ জানুয়ারি: বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় ক্রমাগত বেড়ে চললেও বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বিপজ্জনকভাবে পিছিয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ডিরেক্টর-জেনারেল টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস। এক ভিডিও বার্তা ও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি দেশগুলিকে অগ্রাধিকার বদলের আহ্বান জানান এবং সংঘাত বাড়ানোর বদলে জীবন রক্ষায় বিনিয়োগ করার অনুরোধ করেন। তাঁর কথায়, “শান্তিই সর্বোত্তম ওষুধ।”

ডব্লিউএইচও প্রধান জানান, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় রেকর্ড ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অথচ একই সময়ে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কর্মসূচিতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনি বলেন, ১৫০টি দেশে কাজ করা, বিস্তৃত দায়িত্ব ও লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত একটি সংস্থার জন্য সদস্য দেশগুলির দেওয়া দুই বছরের জন্য ৪.২ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ বছরে ২.১ বিলিয়ন ডলার কোনওভাবেই উচ্চাভিলাষী নয়; বরং তা অত্যন্ত সামান্য। তাঁর মন্তব্য, ২.১ বিলিয়ন ডলার হল বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয়ের মাত্র আট ঘণ্টার সমান।

এই প্রেক্ষাপটেই ডব্লিউএইচও প্রধানের মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। কারণ, বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দীর্ঘ আলোচনার পর ২০২৭ সালের সামরিক বাজেট বর্তমান ১ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, এতে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘স্বপ্নের সেনাবাহিনী’ গড়ে তুলতে পারবে এবং দেশকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক শক্তি বৃদ্ধির এই প্রবণতার মাঝে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়া মানবসভ্যতার জন্য দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

Leave a Reply