ত্রিপুরাকে আত্মনির্ভর রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার স্থানীয় উৎপাদিত পণ্যকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিচ্ছে: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ৯ জানুয়ারি: স্বদেশী মেলা শুধুমাত্র একটি নিছক বাণিজ্যিক বা সাংস্কৃতিক আয়োজন নয় বরং এটি আত্মনির্ভরতা, দেশীয় উৎপাদক, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বনের এক শক্তিশালী প্রতীক। আজ আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে আগরতলা পুর নিগমের উদ্যোগে স্বদেশী মেলা ২০২৬ এর উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ভোকাল ফর লোকাল’ এবং আত্মনির্ভর ভারতের আহ্বানকে বাস্তব রূপ দিতে রাজ্য সরকার নিরন্তর কাজ করে চলছে। আত্মনির্ভর ভারত কেবল একটি বাক্য নয়, এটি একটি জন আন্দোলন- যেখানে প্রতিটি নাগরিক দেশীয় পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অংশীদার হতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন ভারত আজ অনেক কিছুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। যেসব জিনিস আমাদের দেশে রয়েছে এবং আমরা নিজেরা তৈরি করতে পারছি সেইসব জিনিস ব্যবহার করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এর মাধ্যমেই দেশ ২০৪৭-এর বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে। এই ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী নিজস্ব পণ্য ব্যবহার এবং তৈরির উপর আরও গুরুত্ব আরোপ করেন এবং প্রচার প্রসারে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলে, ‘ভোকাল ফর লোকাল’ এর মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে নিজস্ব পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করা, নিজস্ব পণ্য ব্যবহারে আকৃষ্ট করা এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া। এতেই অন্যের প্রতি নির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং স্বনির্ভরতার পথ খুঁজে পাওয়া যায়। রাজ্যের বর্তমান সরকারও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে স্বদেশী মানসিকতা নিয়ে চলার।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বদেশী পণ্য ব্যবহারের আহ্বান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ। আত্মনির্ভর ভারত কোনও একক কর্মসূচি নয়, এটি ১৪০ কোটি ভারতবাসীর সম্মিলিত সংকল্প। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ত্রিপুরাকে আত্মনির্ভর রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার স্থানীয় উৎপাদিত পণ্যকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিচ্ছে। গুণগতমান বৃদ্ধি, উদ্ভাবন, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যাতে আমাদের পণ্য দেশ ও বিদেশের বাজারে সমাদৃত হয়। তিনি বলেন, ত্রিপুরা আজ অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা, শিক্ষা, পর্যটন, অর্থনৈতিক, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজ্যের অগ্রগতি মানুষ উপলব্ধি করতে পারছেন। দেশব্যাপী প্রশংসিতও হচ্ছে। বাইরের বিনিয়োগকারীরাও ত্রিপুরাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তিনি বলেন, স্বদেশী মেলা রাজ্যের ঐতিহ্য এবং স্বনির্ভরতাকে তুলে ধরার এক অভিন্ন মঞ্চ। এর মাধ্যমে স্থানীয় পণ্যের প্রতি মানুষের আস্থা ও আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন।

আগামীতে সারা রাজ্যব্যাপী এই মেলাকে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকসংগীত ও নৃত্য, ঐতিহ্যবাহী প্রদর্শনী এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে রাজ্যের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলকে তুলে ধরার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, প্রতিটি নাগরিক যদি দেশীয় পণ্য ব্যবহারকে গুরুত্ব দেন, তবেই এই স্বদেশী মেলার সার্থকতা। এর মাধ্যমেই আত্মনির্ভর ত্রিপুরা ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলা সম্ভব। এই লক্ষ্য পূরণে স্বদেশী মেলা ২০২৬ এক শক্তিশালী পদক্ষেপ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, স্বদেশী মেলা-২০২৬ চলবে ৯ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ভোকাল ফর লোকাল’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে দেশীয় পণ্যের প্রতি জাগরণ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য নিয়েই এই মেলার আয়োজন। এই মেলা রাজ্যের উন্নয়ন দর্শনের ক্ষেত্রে একটি জীবন্ত দলিল হয়ে থাকবে বলে মেয়র আশা ব্যক্ত করেন। এই মেলার মাধ্যমে স্থানীয় উৎপাদক এবং শিল্পীগণ নিজস্ব পণ্যের বিপণনের ক্ষেত্রে একটি বিরাট সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় স্বদেশী পণ্যের ব্যবহারের প্রতি এতো মনোযোগ লক্ষ্য করা যায়নি। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর দেশীয় পণ্য ব্যবহার এবং দেশকে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা এসেছে। রাজ্যের বর্তমান সরকারও রাজ্যকে আত্মনির্ভরতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছে। আগরতলা শহরের উন্নয়ন আজ রাজ্যের মানুষ উপলব্ধি করতে পারছেন। স্বদেশী পণ্যের ব্যবহার কর্মসংস্থানের পথেও নতুন আলো দেখাবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য্য বলেন, স্বদেশী পণ্যের ব্যবহার এবং এর উৎপাদনে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্য নিয়েই এই মেলার আয়োজন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বদেশী পণ্য ব্যবহার এবং এর প্রচার প্রসারে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এর মাধ্যমেই দেশ আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাবে, অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী হবে। রাজ্যের বর্তমান সরকারও ত্রিপুরাকে আত্মনির্ভর রাজ্য হিসাবে গড়ে তুলতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর দৃষ্টিভঙ্গিকে সার্থক রূপ দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুর নিগমের কমিশনার ডি. কে. চাকমা।

অনুষ্ঠান মঞ্চে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রতন চক্রবর্তী, আগরতলা পুর নিগমের ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্ত, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা ডা. বিশাল কুমার প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী সহ উপস্থিত অতিথিগণ বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। আজকের অনুষ্ঠানে আগরতলার চারটি জোনের কর্পোরেটারগণও উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply