আগরতলা, ১১ ডিসেম্বর: আগরতলার এমবিবি কলেজটিলা লেইকের পরিবেশগত পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। লেইকের জল মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ায় সেখানে মাছের মৃত্যু ঘটছে ধারাবাহিকভাবে। একসময় শীতের মরশুমে পরিযায়ী পাখিদের অন্যতম আশ্রয়স্থল ছিল এই লেইক। কিন্তু এ বছর এখনো পর্যন্ত একটিও পরিযায়ী পাখি দেখা যায়নি, যা পরিবেশবিদ এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বহুদিন ধরে এই লেইকের জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হওয়ার অভিযোগ তুলছিল ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশন। তাদের অভিযোগ ছিল,
একটি প্রাকৃতিক জলাভূমি এবং ঘোষিত জীববৈচিত্র্য সংবেদনশীল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত কলেজ টিলা লেইকটি কংক্রিটের কাঠামো, কৃত্রিম সেতু এবং আলোকসজ্জার কারণে অপরিবর্তনীয় পরিবেশগত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে ত্রিপুরার মহারাজা কর্তৃক দান করা এই লেইকটি ২৮টিরও বেশি পরিযায়ী পাখির প্রজাতি এবং বাদুড়দের আশ্রয় দেয় এবং ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণ, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ ও শহুরে জীববৈচিত্র্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এই লেইকটির পারে পার্ক গড়ে ওঠার ফলে সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে পড়েছে তার স্বাভাবিক ভারসাম্য। পরিযায়ী পাখিরা আসছে না বললেই চলে। পাশাপাশি লেইকের জলেরও দ্রুত অবনতি ঘটছে।
শীতের মৌসুম যত এগিয়ে এসেছে ততই এই অভিযোগের সত্যতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েকটি শীতকাল আগেও যখন একাধিক পরিযায়ী পাখির ডাকে মোহিত হতো এই এলাকা, দূরদূরান্ত থেকে এই পরিযায়ী পাখিদের দেখতে ভিড় জমাতেন শহর সহ আশপাশ বিভিন্ন এলাকার জনগণ। কিন্তু আজ সেখানে এক অন্য দৃশ্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দূষিত জলের ফলে মরছে মাছ। মৃত মাছ ভেসে উঠছে জলে। শহরের কোলাহলেও এক আলাদা শান্তির নীড় ছিল এই লেইক। কিন্তু বর্তমানে এই লেইক তার গৌরব হারিয়েছে বলেই দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, লেইকের রক্ষণাবেক্ষণের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। আশপাশের আবর্জনা, নোংরা জল ও বর্জ্য পদার্থের প্রবাহ বন্ধ না হওয়ায় লেকের জলমান দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় মাছের মৃত্যু প্রতিদিনই বাড়ছে। এর ফলে লেইকের চারপাশে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে, যা গোটা পরিবেশটিকে আরো দূষিত করছে।
লেক সংলগ্ন শিবনগর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক বছরে লেকের পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে। দূষণের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে পরিযায়ী পাখিরা আর এখানে নামতে সাহস পাচ্ছে না। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে লেইকটি পুরোপুরি মৃত জলাধারে পরিণত হবে বলেই ধারণা তাদের।
স্থানীয়রা মনে করছেন, লেইক রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে সাফাই অভিযান, জলশোধন ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজন। পরিবেশপ্রেমী মহলও এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

