নয়া দিল্লি, ১০ ডিসেম্বর: লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রী সতীশ চন্দ্র দুবে জানিয়েছেন যে, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন টন কয়লা গ্যাসিফিকেশন বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার জন্য মোট ৮৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
শ্রী দুবে বলেন, এটি দেশের বৃহত্তর শক্তি স্বাধীনতা অর্জন এবং তার বিপুল কয়লা সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মন্ত্রী আরও জানান, এই প্রকল্পের আওতায় ৭টি গ্যাসিফিকেশন প্রকল্পের মধ্যে দুটি প্রকল্প শীঘ্রই শুরু হবে। তিনি সংসদকে অবহিত করেন যে, এই উদ্যোগটি কেবল কয়লা ব্যবহার করার আরও পরিচ্ছন্ন পদ্ধতি নিশ্চিত করবে না, বরং ভারতের আমদানি নির্ভরতা, বিশেষ করে তেল, মিথানল এবং অ্যামোনিয়ার মতো পণ্যগুলির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেবে।
শ্রী দুবে বলেন, গ্যাসিফিকেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারত ইউরিয়া এবং অন্যান্য রাসায়নিক পণ্য উৎপাদন করবে, যা কৃষকদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে উপলব্ধ হবে এবং সরাসরি তাদের উপকারে আসবে।
২০২০ সালে কয়লা গ্যাসিফিকেশন মিশন চালু হয়, যার লক্ষ্য ছিল ১০০ মিলিয়ন টন কয়লা গ্যাসিফাই করে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের মূল্য এবং উপযোগিতা সর্বোচ্চ করা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, এই উদ্যোগটি ২০২৭ সালের মধ্যে শক্তি স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যকে সমর্থন করে।
বর্তমানে ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮৩ শতাংশ, মিথানলের ৯০ শতাংশ, এবং অ্যামোনিয়ার ১৩ শতাংশ আমদানি করে থাকে। কয়লা গ্যাসিফিকেশন আমদানি নির্ভরতা কমানোর এবং বিদেশি মুদ্রা সঞ্চয় করার একটি সুযোগ প্রদান করবে, বিশেষত তেল, গ্যাস, সার এবং পেট্রোকেমিক্যাল খাতগুলিতে।

