কৈলাসহরে বন্দুক সহ চার সন্দেহজনক যুবক আটক গ্রামবাসীদের হাতে

কৈলাসহর, ২৪ নভেম্বর: গভীর রাতে বন্দুক সহ চার সন্দেহজনক যুবককে আটক করে গ্রামবাসীরা। ঘটনা কৈলাসহরের তিলকপুর গ্রামে। এই ঘটনায় গোটা কৈলাসহরে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, কৈলাসহরের গোলধারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে থাকা তিলকপুর গ্রামে ইদানীং কালে প্রায় প্রতিদিন রাতে চুরি হচ্ছে। এই চুরির ফলে গোটা তিলকপুর গ্রামের মানুষের মধ্যে তীব্র আতংক বিরাজ করছিলো। গ্রামবাসী সহ গোলধারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে কয়েকবার কৈলাসহর থানায় লিখিত ভাবে এবং মৌখিক ভাবে অভিযোগ জানানোর পরও পুলিশ নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছিলো বলে জানায় গোলধারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান।

রবিবার গভীর রাতের ঘটনার ব্যাপারে বলতে গিয়ে গোলধারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কাপুররাজ সিনহা জানান যে, গভীর রাতে চার অপরিচিত যুবককে তিলকপুর গ্রামে দেখতে পেয়ে গ্রামবাসীদের সন্দেহ হলে গ্রামবাসীরা অপরিচিত যুবকদের সাথে কথা বলতে শুরু করে। যুবকদের কথায় অসংলগ্নতা পায় গ্রামবাসীরা। পরবর্তী সময়ে যুবকদের কাছ থেকে বন্দুক উদ্ধার করে গ্রামবাসীরা। সাথে সাথেই গ্রামবাসীরা অপরিচিত যুবকদের উত্তম মধ্যম দিয়ে বন্দুক কেড়ে নেয় এবং কৈলাসহরের অগ্নি নির্বাপক দপ্তরে খবর দেয় এবং কৈলাসহর থানার পুলিশকেও জানায়। খবর পেয়ে অগ্নি নির্বাপক দপ্তরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে চার অপরিচিত জখম যুবকদের উদ্ধার করে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় এবং কৈলাসহর থানার পুলিশের হাতে বন্দুক তোলে দেয় গ্রামবাসীরা। প্রধান কাপুররাজ সিনহা এও জানায় যে, কৈলাসহর থানার পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিদিন নাইট পেট্রোলিং দেওয়া হচ্ছে না। যারফলে গ্রামে প্রতিদিন চুরি হচ্ছে। গ্রামবাসীরা খুব শীঘ্রই গ্রামে নিজেরা পাহাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা নিচ্ছে বলেও জানান প্রধান কাপুররাজ সিনহা।

এই ঘটনার ব্যাপারে পুলিশ প্রকাশ্যে কিছু বলতে নারাজ। তবে, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় যে, ধৃত চার যুবকের নাম হলো জুয়েল আলী, রাশেদ আলী, আসুক আলী এবং বাবলু আলী। ধৃত বাবলু আলীর বাড়ি কৈলাসহরে ফুলবাড়িকান্দি গ্রামে এবং বাকী তিন জনের বাড়ি কৈলাসহরের হীরাছড়া এডিসি ভিলেজ এলাকায়। চার যুবকের কাছ থেকে যে বন্দুক গুলো পাওয়া গেছে সেগুলো পাখী মারার বন্দুক বলেও জানা গেছে। ধৃত চার যুবক একটি বাইকে করে তিলকপুর গ্রামে এসেছিলো। গ্রামবাসীরা চার যুবককে এতটাই মারধোর করেছে যে, চার যুবক গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পুলিশ বাইকটিকেও বাজেয়াপ্ত করে কৈলাসহর থানা রেখেছে। এই ঘটনায় গোটা কৈলাসহর মহকুমায় তীব্র আতংক বিরাজ করছে।