জাতিসংঘ, ২১ নভেম্বর : নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটো-ক্ষমতার একচেটিয়া আধিপত্য বদলানো দরকার—কিন্তু এর আগে সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধা দেওয়া ‘ডি ফ্যাক্টো ভেটো’ বন্ধ হওয়া জরুরি, জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি. হরিশ এমনটাই জানালেন।
জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো প্রসঙ্গে এক আলোচনায় হরিশ বলেন, পরিষদ সংস্কারের জন্য চলমান আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ায় সম্মতির যুক্তি কার্যত একটি ছদ্মবেশী ডি ফ্যাক্টো ভেটোতে রূপ নিয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকেই অচল করে দিচ্ছে।
নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের আলোচনায়—স্থায়ী সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ভেটো ক্ষমতার পরিবর্তন পর্যন্ত—গত ১৭ বছর ধরে কোনও অগ্রগতি হয়নি। একটি ছোটো গোষ্ঠী নিয়মিত প্রক্রিয়াগত কৌশল ব্যবহার করে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে প্রয়োজনীয় নেগোশিয়েটিং টেক্সট গ্রহণে বাধা দিচ্ছে।
ইতালির নেতৃত্বাধীন ইউনাইটিং ফর কনসেনসাস নামের এই গোষ্ঠীতে পাকিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশ রয়েছে। তারা দাবি করছে, সংস্কার নিয়ে সর্বসম্মতি না হলে আলোচনা–পাঠ গ্রহণ করা যাবে না।
হরিশ বলেন, আইজিএন প্রক্রিয়া শুরুর রেজোলিউশনেই স্পষ্ট বলা ছিল যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল ভিত্তি হবে যতটা সম্ভব বিস্তৃত রাজনৈতিক সমর্থন, সর্বসম্মতি নয়।
স্থায়ী সদস্যদের ভেটো-ইস্যুতে হরিশ উল্লেখ করেন ২০২২ সালের জেনারেল অ্যাসেম্বলির রেজোলিউশনের কথা—যেখানে বলা হয়েছে, কোনও স্থায়ী সদস্য ভেটো দিলে তাকে ১০ দিনের মধ্যে অ্যাসেম্বলির সামনে ব্যাখ্যা দিতে হবে। কিন্তু এতে ভেটো ব্যবহারের পরিমাণ কমেনি।
তিনি জানান, ওই রেজোলিউশন গ্রহণের পর থেকে ২০ বার ভেটো প্রয়োগ হয়েছে।
ফলে ইউক্রেন যুদ্ধ ও গত দুই বছর গাজা সংঘাতের মতো বড় সংকটে নিরাপত্তা পরিষদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।
জেনারেল অ্যাসেম্বলির সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক বলেন, “নিষ্ক্রিয়তা বা ভেটোর অপপ্রয়োগ সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপত্তা পরিষদ নয়, পুরো জাতিসংঘ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
হরিশ বলেন, ভেটো কমাতে অ্যাসেম্বলির উদ্যোগ সফল না হওয়া প্রমাণ করে যে খণ্ডিত বা আংশিক সংস্কার যথেষ্ট নয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত পুনরায় দাবি জানাচ্ছে—নিরাপত্তা পরিষদের একটি সর্বাত্মক, কাঠামোগত সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
….

