চড়িলাম, ১২ নভেম্বর: গ্রামোন্নয়ন দপ্তর এবং ত্রিপুরা স্পেস এপ্লিকেশন সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে ত্রিপুরা রাজ্যের সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ত্রিপুরা স্পেস এপ্লিকেশন সেন্টারে কর্মরত ডক্টর সুজিত দাস এবং গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের প্রধান বাস্তুকার। প্রশাসনিক সীমানা নির্ধারণ একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। যেটা সকল প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনার একটি সরঞ্জাম বলা চলে।
ত্রিপুরার প্রধান সচিব গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরকে এ কাজের দায়িত্বভার অর্পণ করেছিল ২০২১ সালে। এই কাজের প্রয়োজনীয়তা লক্ষ্য করা গেছে মূলত এম জি এন রেগার সম্পদ এবং তাহার পঞ্চায়েত সীমানার মধ্যে মিল না থাকা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ক্ষেত্রে জটিলতা ও বিশ্বব্যাংকের অনুদানে রাজ্যের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একই রকম জটিলতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। যার ফলে ত্রিপুরা স্পেস এপ্লিকেশন সেন্টার এবং গ্রাম উন্নয়ন দপ্তর একসাথে বসে জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রশাসনিক সীমানা নির্ধারণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। এই কাজ দুটি ধাপে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রথমত স্যাটেলাইট রিসিভার অর্থাৎ জিপিএস দ্বারা ত্রিপুরার দুর্গম এলাকায় গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমানা ধরে পায়ে হেঁটে ডাটা সংগ্রহ করা। এই কাজে নিযুক্ত ছিল গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের স্থির বেতনের কর্মচারীগণ অর্থাৎ টেকনিক্যাল এসিস্ট্যান্ট জিআরএস এবং পঞ্চায়েত সেক্রেটারিরা।
দ্বিতীয়তঃ সংগৃহীত ডাটা কে জিআইএস প্রযুক্তির দ্বারা নিখুঁত সীমানা নির্ধারণের কাজে ছিলেন প্রকল্পের তদন্তকারী আধিকারিক তথা স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের পক্ষে ডক্টর সুজিত দাস এবং তার প্রজেক্ট টিম। এই কাজ সম্পন্ন করতে উপগ্রহ থেকে তোলা পৃথিবীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। উপগ্রহ দ্বারা ত্রিপুরা রাজ্যের যে ছবি এই কাজে ব্যবহার করা হয়েছে সেটা একটি অত্যন্ত স্পষ্ট ছবি। উদাহরণস্বরূপ বলা চলে এই ছবিতে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা গণনা একান্তই সহজলভ্য। গ্রাম পঞ্চায়েত ও ভিলেজ কমিটির সীমানার খসড়া অনুলিপিটি ব্লক স্তরে ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারদের দ্বারা যাচাই করার পর প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সম্পন্ন করা হয়। যার ফলে চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে। রাজ্যের ১১৭৬ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ভিলেজ কমিটির বিজ্ঞপ্তি মূলে এই সীমানা চূড়ান্ত করা হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ভিলেজ কমিটির চূড়ান্ত সীমানার গুণমান পরীক্ষা করে শংসাপত্র প্রদান করা হয় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি আগরতলা থেকে।
গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ভিলেজ কমিটির চূড়ান্ত সীমানা নিয়ে দপ্তর গুলির সাথে মিটিং করা হয়। বিভিন্ন দপ্তরের মতামতের সাপেক্ষে ব্লক মহকুমা এবং জেলাভিত্তিক সীমানা চূড়ান্ত করা হয়। প্রশাসনিক স্তরের সীমানা নির্ধারণের উপর ভিত্তি করে একটি প্রতিবেদনও তৈরি করা হয়। প্রতিবেদনটির প্রাসঙ্গিক দফতরের পরীক্ষাধীন এবং রাজ্য সরকার শীঘ্রই বিজ্ঞপ্তি জারি করবেন বলে জানা গিয়েছে। জিআইএস অর্থাৎ ভৌগোলিক তথ্যপ্রণালী নামক উন্নত প্রযুক্তির দ্বারা রাজ্যের প্রশাসনিক সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার ফলে এখন থেকে তার আয়তন পরিমাপ ঘরে বসেই সম্ভব হবে। এর ফলে ত্রিপুরা রাজ্যের জেলা স্তর থেকে শুরু করে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত মানচিত্র তৈরি করা একেবারে ছেলে খেলার কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কাজ অবশ্যই ত্রিপুরা সরকারের প্রশাসনিক কাজের গতিকে ত্বরান্বিত করবে। রাজ্যের গবেষণা এবং পরিকল্পনার কাজকে সহজ থেকে সহজতর করে তুলবে বলে ত্রিপুরা স্পেস এপ্লিকেশন সেন্টার এর পক্ষে এই দাবি করেছেন ডক্টর সুজিত দাস।

