আগরতলা, ২৬ সেপ্টেম্বর : মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচির ৩৩তম পর্বে আজও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাহায্য প্রত্যাশী জনগণ মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা’র সাথে সাক্ষাৎ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে জনগণ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তাদের অভাব, অভিযোগ ও সমস্যা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীকে অবগত করেন। চিকিৎসা, শিক্ষা, সামাজিক ভাতা, কর্মসংস্থান ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী সমস্যা পীড়িতদের তাৎক্ষনিক সহায়তার পাশাপাশি প্রত্যেকের সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
আগরতলার জয়নগরের বাসিন্দা ভাস্করজ্যোতি ভৌমিক অতিবিরল জিনগত রোগে ভুগছেন। বর্তমানে কলকাতায় তার চিকিৎসা চলছে যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। শ্রীভৌমিক এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আর্জি জানালে মুখ্যমন্ত্রী তার চিকিৎসার সুবিধার্থে মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় আয়ুষ্মান কার্ড সহ বিনামূল্যে ঔষুধপত্র প্রদানের ব্যবস্থা করে দেন। এছাড়াও চিকিৎসার বিষয়ে সহায়তার জন্য এসেছিলেন ক্যান্সার আক্রান্ত বাগমা নিবাসী করুনা দেবনাথ, কুঞ্জবনের বাবলি সিনহা তার মায়ের হাটুর প্রতিস্থাপন, উত্তর যোগেন্দ্রনগরের গীতা ভৌমিক তার স্বামীর চিকিৎসা, আর এম এস চৌমুহনীর মিনা পাল সহ আরও অনেকে। প্রত্যেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের সমস্যার কথা জানান। মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচিতে উপস্থিত জিবিপি হাসপাতাল এবং ক্যান্সার হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারগণকে মুখ্যমন্ত্রী চিকিৎসার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তার নির্দেশ দেন।
সরকারি হাসপাতালে যেহেতু চিকিৎসার বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে সেই সুযোগ গ্রহণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সাহায্য প্রত্যাশীদের পরামর্শ দেন। সামাজিক ভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে ইন্দ্রনগরের শিলা রানী চক্রবর্তীর আবেদনের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী তৎক্ষনাত সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সচিব এল টি ডার্লং-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়াও পুকুর ভরাট সংক্রান্ত সমস্যা, ন্যায় বিচার ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষুতে যারা এসেছিলেন তাদের সমস্যা সমাধানেও মুখ্যমন্ত্রী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন। সমস্যার গুরুত্বের নিরিখে মুখ্যমন্ত্রী কয়েকজনকে আর্থিক সহায়তাও করেন।
মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ায় সাহায্য প্রত্যাশীরা আশ্বস্ত হন। মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর সচিব ড. পি কে চক্রবর্তী, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সচিব এল টি ডার্লং, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা তপন কুমার দাস, জিবিপি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার ডা. শঙ্কর চক্রবর্তী, অটল বিহারী রিজিওন্যাল ক্যাম্পার সেন্টারের মেডিক্যাল সুপার ডা. এস দেববর্মা, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের রাজ্য শাখার ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ড. সমিত রায় চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

