মানবিকতার ছবি দিয়েও নিষ্কৃতি নেই কলকাতা পুলিশের

কলকাতা, ৩০ আগস্ট (হি.স.): মানবিকতার ছবি দিয়েও নেটনাগরিকদের তোপের মুখে পড়ল কলকাতা পুলিশ। ফেসবুক পেজে পোস্ট করার ২০ ঘন্টা বাদে শুক্রবার বেলা সওয়া ১২টায় মন্তব্য হয়েছে ৩ হাজার ৮০০। এর বারো আনার ওপর পুলিশকে কটাক্ষ করে।

সাব-ইনস্পেকটর মনীষা হাজরা, ২৭ অগাস্ট, ২০২৪ ডিউটি সেরে ফেরার পথে মহাত্মা গান্ধী রোডে ক্ষুধার্ত সহনাগরিকের সঙ্গে নিজের টিফিন ভাগ করে নেন। চিত্রসাংবাদিক অর্ণব চক্রবর্তীর তোলা। সেই ছবি পোস্ট করা হয়েছিলো কলকাতা পুলিশের ফেসবুক পেজে।

প্রতিক্রিয়ায় পৃথা রায়চৌধুরী লিখেছেন, “লোক হাসাচ্ছেন কেন? প্লিজ ভুলভাল পোস্ট করে ভাববেন না আমরা অন্যায় অবিচার সব ভুলে যাচ্ছি।” প্রিয়ঙ্কা শর্মা লিখেছেন, “আবার অনেক পুলিশ কুকুরের উপর অত্যাচার হলে থানাতে অভিযোগ পর্যন্ত নেয় না, পশুপ্রেমীরা এটা ভালো জানেন।” আকাশ ভুঁইয়া লিখেছেন, “এই সব পোস্ট করে সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা যেন না করা হয়!”

অরুণাভ মালো লিখেছেন, “খুব ভালো কাজ করেছেন অনেক ভালোবাসা জানাই। আজ যদি জনগণ ছোট ছোট কুকুরশাবক হতো তাহলে হয়তো আপনাদের থেকে সত্যিই অনেক অনেক ভালো ও সহমর্মী পরিষেবা পেতো। দুঃখের বিষয় আমরা মানুষ হয়ে জন্মেছি।”

মধুমিতা মজুমদার লিখেছেন, “এই আপনারাই তো আবার পশুনির্যাতন নিয়ে কেউ এফআইআর করতে গেলে তামাশা করেন। একটা অবলা শিশুকে উনি খাওয়াচ্ছেন। এটা সুস্থ, সুষ্ঠ নাগরিকের কর্তব্য। সেটাকে হাইলাইট করে নিজেরা ভালো হতে পারবেন? মানুষের প্রতিও একটু কর্তব্য করুন!” অপর প্রতিক্রিয়ায় মধুমিতা লিখেছেন, “যেভাবে মুখ পুড়িয়েছেন, এসব দেখিয়ে কোনো লাভ হবেনা।”

পুলক রায়চৌধুরী লিখেছেন, “প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টেই বেশ কিছু সংবেদনশীল মানুষ থাকেন। তাঁদের যোগ্য মর্যাদা দেওয়া, তাঁদের সংবেদনশীল মনন থেকে প্রেরণা নেওয়ার শিক্ষা সেই ডিপার্টমেন্টকেই নিতে হয়। শুধু ভাবমূর্তি ফেরানোর জন্য, তাঁদেরকে হাইলাইট করার চেষ্টা বা অপচেষ্টা -ডিপার্টমেন্টের সেই মানুষটিকেও কিন্তু এক্সপ্লয়েট করা হয়!  সাব-ইন্সপেক্টর ম্যাডাম নিজের তাগিদেই, তাঁর সংবেদনশীল মনকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তাঁকে কুর্নিশ জানাই। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করুক ডিপার্টমেন্ট নিজে। অন্তত: দশ-বিশ বছর পরে হলেও, আমরা যেন একদিন গর্ব করতে পারি এই ডিপার্টমেন্টকে নিয়ে। সেদিন ‘স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড’ নিজে আপনাদের তুলনা করবেন, আপনাদের যোগ্যতাকে বিশ্ব-দরবারে প্রকাশ করবেন! সেদিন এই ডিপার্টমেন্টের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সাধারণ মানুষই এগিয়ে আসবেন!”বিপরীত মনের অর্থাৎ পুলিশের প্রশংসার প্রতিক্রিয়াও কিছু আছে। যেমন, রাজীব দত্ত লিখেছেন, “সুন্দর। অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই মনীষা হাজরাকে।” মুনমুন ঝা লিখেছেন, “সত্যি মুহুর্তটা অসাধারন!”