আগরতলা, ২৮ আগস্ট: রাজ্যের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে কৃষক সমাজ। তাই গতকাল কৃষকদের ও কৃষি ক্ষেত্রের অবস্থা নিয়ে ১৪ দফা দাবিতে মুখ্যসচিবের নিকট সারা ভারত কৃষক সভার তরফ থেকে ডেপুটেশন প্রদান করা হয়েছিল। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানিয়েছেন সংগঠনের রাজ্য কমিটির সম্পাদক পবিত্র কর।
রাজ্য কমিটির সম্পাদক পবিত্র কর বলেন, গতকাল সারা ভারত কৃষক সভা ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি মুখ্যসচিবের সাথে রাজ্যের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে কৃষকদের ও কৃষি ক্ষেত্রের অবস্থা নিয়ে এক ডেপুটেশনে মিলিত হয়েছিলেন। সেখানে চৌদ্দ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এদিন তিনি আরও বলেন, ঠিক গত একবছরে পরপর প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য রাজ্যের কৃষকদের ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল। কৃষক সভা এই ব্যাপারে একাধিকবার সরকারের নিকট বিভিন্ন পর্যায়ে ডেপুটেশনে সমস্ত বিষয়গুলো জানিয়েও কোনো ফল পায়নি। এবাবের ভয়ঙ্কর বন্যার ফলে প্রায় আড়াই লক্ষ কৃষক তাদের কৃষি জমির ফসল সহ সব কিছু খুইয়েছেন। পরিস্থিতি এমন একজায়গায় এসে ঠেকেছে যে সরকার যদি সঠিকভাবে পাশে না দাঁড়ায় তাহলে রাজ্যের কৃষক, কৃষি ব্যবস্থা ও রাজ্যের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে।
তাই মুখ্যসচিবের নিকট ১৪ দফা দাবি জানানো হচ্ছে। দাবিগুলো হল, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সমস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রীর ফসল বীমা যোজনায় অতি সত্বর সহায়তা করা, কৃষি ক্ষেত্রগুলো বন্যার জলের জন্যে পলিথিন জমে থাকায় কৃষিকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমি পুনরুদ্ধারের জন্য কৃষকদের রেগা ও টুয়েফের কাজের বন্দোবস্ত করা হোক, সমস্ত কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক, চারাগাছ অতিসম্বর দিয়ে সাহায্য করা, যারা মৎস্য চাষ করেন সেই মৎস্যজীবীদের, তাদের জন্য মাছের পোনা, যারা গবাদিপশু পালন করেন তাদের জন্যে গো খাদ্য, শূকর, ও পল্টি পালনকারীদের জন্য শূকর প্রজননের ব্যবস্থা বিনামূল্যে প্রদান করা হোক।
পাশাপাশি, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সেচ ব্যবস্থাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেরামত করে কৃষকদের ব্যবহার উপযোগী করে তোলা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক সহায়তা দিতে হবে যাতে তারা কৃষিকাজ শুরু করতে পাবে, ত্রিপুরার পার্বত্য এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজাতিদের স্বার্থে তাদের জুম চাষের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সাহায্য দিতে হবে, বন্যায় পুকুরগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলোকে পূর্বাবত অবস্থায় আনতে প্যাকেজ ঘোষণা করা,শাক সবজি উৎপাদনের জন্য ও ফুল, ফল ও বাগিচা কৃষির জন্য কৃষকদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় বীজ ও চাড়াগাছ প্রদান করতে হবে ও বন্যায় সার ও কিটনাশক দিতে হবে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নষ্ট হয়ে যাওয়া জলাশয়গুলোকে কৃষকদের বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় মাছের পোনা সরবরাহ করা ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, কাঁচা লঙ্কা ইত্যাদি সবজি উৎপাদনে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং কৃষকদের জন্য সুদহীন ব্যাঙ্ক ঋণের ব্যবস্থা করা হোক।

